উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠনের বিধান রেখে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ’ জারি করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল আইন বিচার সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ এ গেজেট প্রকাশ করেছে।
নতুন এই আইনে সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ প্রদানে প্রধান বিচারপতিকে সহায়তা দিতে স্থায়ী কাউন্সিলের বিধান রাখা হয়েছে। পদাধিকার বলে এর চেয়ারম্যান হবেন প্রধান বিচারপতি। সাত সদস্যের মধ্যে অন্যরা হলেন- কর্মে প্রবীণ আপিল বিভাগের একজন বিচারক, কর্মে প্রবীণ (বিচার বিভাগ থেকে নিযুক্ত নয়) হাই কোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, বিচার বিভাগ থেকে নিযুক্ত হাই কোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি এবং চেয়ারম্যান মনোনীত আপিল বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক এবং আইন বিভাগের একজন অধ্যাপক। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল পদাধিকার বলে কাউন্সিলের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে রেজিস্ট্রার জেনারেলের দপ্তর এই কাউন্সিলকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে বলেও আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৫ ও ৯৮-এর অধীন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও অতিরিক্ত বিচারক পদে নিয়োগ দিতে কাউন্সিল সংবিধানে বর্ণিত ন্যূনতম যোগ্যতার অতিরিক্ত হিসাবে থাকবে প্রার্থীর বয়স কোনোক্রমে ৪৫ বছরের নিচে হবে না, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকতে পারবে না, পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ থাকতে হবে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৫(২)-এর (ক) দফায় উল্লেখ আছে, সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট হিসেবে ন্যূনতম যোগ্যতাসহ প্রার্থীর পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, সততা ও সুনাম নিশ্চিত করতে হবে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৫(২)-এর (খ) দফায় উল্লিখিত বিচার-কর্মবিভাগের সদস্য হিসেবে ন্যূনতম যোগ্যতাসহ প্রার্থীর বিচারিক আদেশ ও সিদ্ধান্তের মান, আদালত ব্যবস্থাপনা, অভিজ্ঞতা, সততা ও সুনাম যাচাই করতে হবে।
অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে কাউন্সিল। এ ছাড়া আবেদন চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তি দেবে। সংগৃহীত তথ্য এবং জমা পড়া আবেদন যাচাই-বাছাই করবে। কাউন্সিলের বিবেচনায় যথাযথ প্রার্থীদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করবে। প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেবে। নিয়োগযোগ্য বিচারকের সংখ্যার অতিরিক্ত যুক্তিসংগত সংখ্যক প্রার্থীর নামসহ একটি তালিকা সুপারিশ আকারে প্রণয়ন ও প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করবে।
এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, অতিরিক্ত বিচারকদের মধ্যে হাই কোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারক নিয়োগ করা হবে। এ জন্য কাউন্সিল সুপারিশ প্রণয়ন করে তা প্রধান বিচারপতির কাছে দেবে। চাইলে কাউন্সিল সুপ্রিম কোর্টের কোনো অতিরিক্ত বিচারকের মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করতে পারবে। আবার কোনো অতিরিক্ত বিচারক স্থায়ী নিয়োগে অনুপযুক্ত হলে কাউন্সিল তাকে সুপারিশে বিরত থাকতে পারবে।
অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, শূন্যপদ অনুযায়ী হাই কোর্ট বিভাগে কর্মরত জ্যেষ্ঠদের আপিল বিভাগে বিচারক হিসেবে নিয়োগ করা হবে। এ জন্য নির্ধারিত নিয়োগযোগ্য বিচারকের সংখ্যার অতিরিক্ত যুক্তিসংগত সংখ্যক নামসহ একটি তালিকা সুপারিশ আকারে প্রণয়ন ও প্রধান বিচারপতির কাছে দেবে। প্রধান বিচারপতি সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে তার পরামর্শ রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবেন। এর ১৫ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ দেবেন। কোনো ক্ষেত্রে এই পরামর্শের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলে রাষ্ট্রপতি তথ্য এবং কারণ উল্লেখ করে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠাবেন। পুনঃনিরীক্ষণের অনুরোধপ্রাপ্ত হলে প্রধান বিচারপতি যত দ্রুত সম্ভব কাউন্সিলে উপস্থাপন করবেন। বিষয়টি পুনঃনিরীক্ষণ করে সংশোধিত আকারে পুনঃসুপারিশ করতে পারবেন। যথাযথ তথ্য ও কারণ উল্লেখ করে আগে পাঠানো সুপারিশ কোনো সংশোধন ছাড়া পুনরায় বহাল রাখতে পারবেন। সংশোধিত অথবা সংশোধন ছাড়া গৃহীত সুপারিশ প্রধান বিচারপতি তাঁর পরামর্শ আকারে রাষ্ট্রপতির কাছে পুনরায় পাঠাবেন। ১৫ দিনের মধ্যে পরামর্শ কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন রাষ্ট্রপতি।