মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর শপথ ঘিরে বিশ্বজুড়ে চলছে নানা আলোচনা। নতুন প্রশাসনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন হবে তা নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার পরিবর্তন হলেও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে তেমন পরিবর্তন হবে না। তবে ছোটখাটো কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আসতে পারে। নির্বাচন আয়োজনে তাগাদা বাড়াবে নতুন প্রশাসন। বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের যে উষ্ণ সম্পর্ক ছিল, সেই উষ্ণতায় ভাটা পড়তে পারে। ফলে বাংলাদেশের প্রতি কমতে পারে মার্কিন প্রশাসনের নজর। সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীর বলেছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের ফলে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে খুব বেশি পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে মনে হয় না। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন চাইবে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা থাকুক, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া উত্তীর্ণ হোক, অর্থনীতি শক্তিশালী হোক, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক, এ অঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত হোক। আমরাও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে যেতে চাইছি, সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে চাইছি, অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করতে সচেষ্ট। দুই দেশের নীতিগত প্রাধান্যের মধ্যে সাজুয্য রয়েছে। তাই তেমন পরিবর্তনের আভাস নেই। তিনি আরও বলেন, তবে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসীদের ব্যাপারে নীতিগত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেবে। এটা বাংলাদেশিদের জন্য কিছু প্রতিকূলতা তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া সব দেশ থেকে পণ্য আমদানিতে শুল্ক আরোপের বিষয়ে আলোচনা ছিল। সেটা যদি বাস্তবায়ন করে তাহলে বাংলাদেশ কিছুটা বাণিজ্যিক প্রতিকূলতায় পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের সঙ্গে বড় আকারে সম্পর্ক করতে আগ্রহী। সেই হিসেবে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি বাংলাদেশের ওপর যেভাবে নজর রেখেছিল সেই নজর ট্রাম্প প্রশাসনের নাও থাকতে পারে। পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অনেকেরই সুসম্পর্ক রয়েছে। সেই জায়গায় রিপাবলিকান প্রশাসনের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পর্কে ভাটা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারকে মার্কিন প্রশাসন যেভাবে গুরুত্ব দিয়ে আসছিল সেটা নাও থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনের ব্যাপারে আমেরিকা তাড়া দেবে। এরই মধ্যে দেশটির বিভিন্ন রাষ্ট্রদূতও নির্বাচনের ব্যাপারে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠদের ওপর একটা বিশেষ নজর থাকবে মার্কিন প্রশাসনের। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে নতুন মার্কিন প্রশাসনের সহযোগিতা কমতে পারে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টি বার্মা অ্যাক্ট, রোহিঙ্গা অ্যাক্টসহ যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল সেগুলো স্থবির হয়ে যেতে পারে। তবে সামনের দিনগুলোতে কী হয় তার ওপর নজর রাখতে হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথাবার্তায়ও অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।