বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সৎ ও আদর্শবান মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। তাদের আরও বেশি করে দলের কাছে নিয়ে আসতে হবে, দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।
গতকাল বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ‘বিএনপির সদস্য নবায়ন কর্মসূচি’র উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ভার্চুয়ালি তিনি এসব কথা বলেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনলাইনে চাঁদা দিয়ে নিজের সদস্যপদ নবায়ন করেন এবং এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সদস্য ফরমের দাম ধরা হয় ২০ টাকা। তিনি এই ২০ টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার মাধ্যমে পরিশোধ করেন।
একই সঙ্গে মঞ্চে বসা দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ফরম পূরণ করে তাদের সদস্যপদ নবায়ন করেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আবদুস সালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবে রহমান শামীম, শামা ওবায়েদ, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শরীফুল আলমসহ সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, মহানগর উত্তর-দক্ষিণ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকগণ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত বক্তব্য রাখেন। এতে সভাপতিত্ব করেন দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তারেক রহমান বলেন, আজকে আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের একটি দিন। কারণ বিগত বছরগুলোতে আমাদেরকে এত অত্যাচার, এত নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে, এক কথায় আমাদের ওপর একটা প্রচ ঝড় গিয়েছে। এত কিছু সহ্য করার পর আজকে আমরা আমাদের দলের সদস্য নবায়ন করতে পারছি। এ জন্যই দিনটি আমাদের কাছে খুবই আনন্দের। তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকার দেশের প্রত্যেকটি সেক্টরকে একেবারে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। এই রাষ্ট্রটিকে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার ধ্বংস করে দিয়েছে, অনেক পেছনে নিয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর দমননীতি চালানো হয়েছে। আমাদের নেতা-কর্মীদের গুম করা হয়েছে, খুন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপিসহ আরও অন্যান্য রাজনৈতিক দল আছে-তাদের নেতা-কর্মীদের গুম, খুন করা হয়েছে। আমরা এই ঝড়ে আমাদের অনেক সহকর্মীকে হারিয়েছি। অনেককে হারিয়েছি প্রাকৃতিকভাবে। অনেকে আবার হয়তো বিভিন্ন কারণে সরে গিয়েছেন রাজনীতি থেকে। আমরা দলকে পুনর্গঠন করব। তিনি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যে মানুষগুলো এত ঝড়ের পরেও দলটাকে টিকিয়ে রেখেছেন, যে মানুষগুলো এত অত্যাচার-নিপীড়ন সহ্য করেও দলটাকে আবারও মানুষের কাছে নিয়ে গেছেন, যাদের কারণে আমরা আমাদের অবস্থানে থেকে মানুষের সামনে কথা বলতে পারছি, সেই মানুষগুলোকে আমরা আবারও একত্রিত করতে চাই। ঐক্যবদ্ধ করতে চাই। সে জন্যই আমরা আবারও আমাদের সদস্যপদ নবায়ন কর্মসূচি শুরু করেছি।
তারেক রহমান বলেন, এই সাংগঠনিক কর্মসূচিটি সাকসেসফুল করতে হবে। জেলা, থানা, পৌর, ইউনিয়ন, গ্রামপর্যায়ে যেসব নেতৃবৃন্দ আছেন, তাদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যেভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময়ে আপনারা ঐক্যবদ্ধভাবে বিভিন্ন কর্মসূচিগুলো সফল করেছিলেন, একইভাবে এই কর্মসূচিটিও আপনারা সফল করবেন। তিনি বলেন, এই দলকে যত শক্তিশালী ও পুনর্গঠিত করতে পারব, আগামী দিনে আমাদের ৩১ দফার মাধ্যমে আমরা দ্রুত রাষ্ট্রও মেরামত করতে পারব, রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন করতে পারব।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের এখন প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে। বিএনপিকে আদর্শ দলে পরিণত করতে হবে, মেধার নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। শুধুমাত্র স্লোগান দিয়ে আমরা সামনে, আরও সামনের যুদ্ধ জয় করতে পারব না।