নির্দলীয় ব্যক্তিকে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে সরাসরি ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে চান অধিকাংশ মানুষ। এক্ষেত্রে নির্দলীয় ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে চান দেশের ৬৮ শতাংশ মানুষ। আর জনগণের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার পক্ষে মত দিয়েছেন প্রায় ৮৩ শতাংশ মানুষ।
একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও নির্দলীয়ভাবে করার পক্ষে মতামত দিয়েছেন দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ। নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারবিষয়ক জাতীয় জনমত জরিপে এসব মতামত এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাধ্যমে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন সংস্কার প্রস্তাব তৈরির জন্য ওই জরিপ চালিয়েছে। গত ২০-২২ ডিসেম্বর জরিপ করে বিবিএস। ইতোমধ্যে জরিপের খসড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে কমিশনের ওয়েবসাইটে। জরিপের খসড়া প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নির্দলীয় ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে চান দেশের ৬৮ দশমিক ২৮ শতাংশ মানুষ। আর ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ মানুষ চান দলীয় ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে। আবার জনগণের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে চান দেশের ৮২ দশমিক ৬৪ শতাংশ মানুষ। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছেন ১৩ দশমিক ০৮ শতাংশ মানুষ। নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে ইসির কর্মকর্তাদের দেখতে চান ৪৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ মানুষ। আর জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং অফিসার চান ৪৪ দশমিক ০৩ শতাংশ মানুষ। জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় করার পক্ষে মত দিয়েছেন ৬৯ দশমিক ৭১ শতাংশ মানুষ। দলীয় প্রতীকে এই নির্বাচন চান ২৭ দশমিক ৮২ শতাংশ মানুষ। এ বিষয়ে জানেন না জবাব ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ মানুষ। দেশের ৮৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ মানুষ প্রবাসীদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ইলেকট্রনিক ভোট আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন। ১০ শতাংশ মানুষ ইলেকট্রনিক ভোট আয়োজনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ ছাড়া বিদেশে রাজনৈতিক দলের শাখা রাখার বিষয়টিকে সমর্থন করেন না ৪৯ দশমিক ৬০ শতাংশ মানুষ। ৪২ দশমিক ০৮ শতাংশ মানুষ বিদেশে দলের শাখা থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন। এ ছাড়া রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তিক ছাত্রসংগঠন থাকার বিপক্ষে ৬৩ শতাংশ এবং পক্ষে ৩১ শতাংশ মানুষ। এ বিষয়ে জানেন না প্রায় ৫ শতাংশ মানুষ। নির্বাচনে ‘না’ ভোট জয়ী হলে পরাজিত প্রার্থীদের বাদ দিয়ে নতুন নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত দেন ৭৮ শতাংশ মানুষ। এর বিপক্ষে ছিলেন প্রায় ১৭ শতাংশ। সংস্কার কমিশন তাদের সুপারিশে এটি রেখেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো আসনে প্রদত্ত ভোট ৫০ শতাংশের কম হলে ওই আসনে পুনর্নির্বাচনের পক্ষে মত দেন ৭৮ শতাংশ মানুষ। বিপক্ষে মত দেন ১৭ শতাংশ। সংস্কার কমিশন তাদের সুপারিশে ৪০ শতাংশের কম ভোট পড়লে পুনর্নির্বাচন আয়োজনের সুপারিশ করেছে। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ১০০টিতে উন্নীত করে নির্দিষ্ট নির্বাচনি এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচনের পক্ষে মত প্রায় ৭৪ শতাংশ মানুষের। আর প্রায় ২০ শতাংশ ছিলেন বিপক্ষে।