জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতা জাতির পক্ষ থেকে বিশাল আমানত। এ আমানত আল্লাহ কাউকে দিয়ে পরীক্ষা করেন। সাড়ে ১৫ বছর দুঃশাসনের বাংলাদেশ ছিল। শেষ পর্যন্ত দুপুরবেলা রান্না ভাতও খেয়ে যেতে পারলেন না।
চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের কর্মিসম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। চুয়াডাঙ্গা টাউন মাঠে এ সম্মেলন হয়। তিনি বলেন, আরেকবার যুদ্ধের জন্য সবাই প্রস্তুত হন। জামায়াত আমির বলেন, মানুষের সামনে মুখ দেখানোর সৎ সাহস নেই বলে তারা পালিয়ে গেছেন। আপনারা ফিরে আসেন। আপনাদের বিচারটা দেখতে চাই। দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসলে চলে আসেন। তিনি বলেন, আপনি বিরোধী দলের দেশপ্রেমিক নেতা-কর্মীকে নির্বিচারে খুন করেছেন। বিচারের নামে প্রহসন করে অনেককে খুন করেছেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছেন। প্রথম ভোট (২০১৪) মানুষ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করল।
ভোট কেন্দ্রের সামনে নিরীহ প্রাণীরা মনের শান্তিতে ঘুমিয়ে থাকল। ২০১৮ সালে করলেন নিশিরাতের নির্বাচন। ২০২৪ সালে এসে করলেন- আমি আর ডামি নির্বাচন। জামায়াত আমির বলেন, আমাদের দেশের সবকিছু ধ্বংস করে দিলেন। শিক্ষাব্যবস্থা মুগুর বাহিনীর হাতে তুলে দিলেন। আমাদের উন্নয়ন লুটেরাদের হাতে তুলে দিলেন। বাংলাদেশ থেকে ২৬ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করলেন। দেশ গড়লেন না; কিন্তু বিদেশের মাটিতে বেগমপাড়া গড়লেন।
তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা অবহেলিত। স্বাভাবিক উন্নয়ন হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারকে তিনি বলেন, ইনসাফের কারণে আগামী একনেকে চুয়াডাঙ্গায় কমপক্ষে একটি প্রতিষ্ঠান দেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একটি মেডিকেল কলেজ করে দেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বন্ধুদের বলি, দেশটাকে ভালোবাসুন। দেশকে ভালোবাসার অর্থ আজ থেকে আমি আর চাঁদাবাজি করব না, অন্যায় করব না, দখলবাজি চালাব না, মানুষকে ভয়ভীতি দেখাব না, লুণ্ঠন করব না। ড. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী আপামর জনগণকে নিয়ে দেশটা গড়তে চায়। ওরা দেশের যে কঙ্কাল রেখে গেছে, সেই কঙ্কালে গোশত ও চামড়া পরাতে চাই। ওরা উন্নয়নের নামে লুটতরাজের মহারাজ্য কায়েম করেছিল। মানুষকে ইনসাফভিত্তিক উন্নয়ন উপহার দিতে চাই। তিনি বলেন, মানবিক, দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় চুয়াডাঙ্গা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া বাইপাস চত্বরে আয়োজিত পথসভায় জামায়াত আমির বলেন, এ দেশ হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবার। কাজেই সুন্দর দেশ গড়তে সবার সহযোগিতা লাগবে। তিনি বলেন, আমাদের সন্তানরা যারা জীবন দিয়েছে, আহত হয়েছে, পঙ্গু হয়েছে তারা এমন বৈষম্যমুক্ত দেশ চায়। আমাদের সন্তানরা যে স্বপ্ন নিয়ে প্রাণ দিয়েছে, সে স্বপ্ন পূরণে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। সে স্বপ্ন পূরণে আমরা কারও কাছে মাথা নত করব না।