জাতীয় সংসদের মেয়াদ চার বছর ও প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ দুবার দায়িত্ব পালনের সুযোগসহ ব্যাপক পরিবর্তনের সুপারিশ করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে চার সংস্কার কমিশন। একই ব্যক্তি যাতে প্রধানমন্ত্রী, দল ও সংসদের নেতা না হন এবং রাষ্ট্রপতির মেয়াদও চার বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, নির্বাচনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো সবার আগে সম্পাদন করে দ্রুত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করা উচিত। নির্বাচনের পর গঠিত জনগণের পার্লামেন্টের মাধ্যমে বাকি সংস্কারগুলো করতে হবে। তা ছাড়া সংস্কার কার্যক্রম হলো একটা চলমান প্রক্রিয়া। এখন যেসব বিষয়ে সংস্কারের প্রয়োজন মনে হচ্ছে- সময়ের ব্যবধানে সেগুলোর প্রয়োজন না-ও থাকতে পারে। আবার নতুন নতুন বিষয়ে সংস্কারের বেশি দরকার হতে পারে। তবে নির্বাচনের স্টেকহোল্ডার রাজনৈতিক দলগুলো যেসব বিষয়ে একমত হবে- সেগুলোতে এখনই সংস্কার হতে পারে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, গণতন্ত্র মঞ্চ, খেলাফতে মজলিসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপকালে তাঁরা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে উপরোক্ত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা সংস্কারের বিপক্ষে নই। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। নির্বাচনসংক্রান্ত যেসব সংস্কারের সুপারিশগুলো পাওয়া যাবে বা গেছে, সেগুলোর মধ্যে নির্বাচনি স্টেকহোল্ডাররা যেগুলো নিয়ে একমত সেসব বিষয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা দরকার। এ সরকারের প্রধান এজেন্ডা হওয়া উচিত- একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ, নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক নির্বাচন উপহার দেওয়া। সেটা রোডম্যাপ ঘোষণার মধ্য দিয়েই জাতিকে পরিষ্কার চিত্র দেওয়া উচিত। আর বাকি সংস্কারগুলো নির্বাচিত সরকারের ওপর ন্যস্ত করা উচিত। একই বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান এজেন্ডাই হলো- যত দ্রুত সম্ভব একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করা। জনগণের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। এক্ষেত্রে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যেটুকু সংস্কার প্রয়োজন- সেটুকু সম্পন্ন করেই জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করা উচিত। একই সঙ্গে সরকারের উচিত শিগগিরই একটি নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা করা। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এ বিষয়ে বলেছেন, আমরা চাই, অতি জরুরি সংস্কারগুলো করে বর্তমান সরকার একটা সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে তারা যার যার জায়গায় চলে যান। এ নির্বাচনে জনগণ যাকে ভালোবাসেন, যার ওপরে আস্থা রাখতে পারবেন, যাদের দেশের দায়িত্বটা দিলে দেশের মানুষকে সম্মান করবেন, তাদের বেছে নেবেন। দেশের মানুষের আমানতকে যারা শ্বশুরবাড়ির নিয়ামত মনে করবেন না, প্রতিটি আমানতের পাই পাই করে হিসাব রাখবেন, তাদেরই জনগণ বেছে নেবেন।
গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতা ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, অতীব প্রয়োজন সংস্কারগুলো অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে। অতএব একটা যৌক্তিক সময়ের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকান্ডে আমরা সে ধরনের কোনো তৎপরতাই লক্ষ্য করছি না। অন্যদিকে যৌক্তিক সংস্কারের পর নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে ইসলামি দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে। ইতোমধ্যে ইসলামি দলগুলোর মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে। এ ছাড়াও আগামীর বাংলাদেশে আমরা আরও বৃহত্তর ঐক্যের প্রত্যাশা করছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে ইসলামবিরোধী কোনো আইন, নীতিমালা ও বিধিমালা যাতে কার্যকর হতে না পারে- এমন একটা ধারা আমরা সংবিধানে সংযুক্ত করার জন্য জোর দাবি ও প্রস্তাব করেছি।