বৈদেশিক মুদ্রার উচ্চ বিনিময় হার, আমদানি খরচ বৃদ্ধি, উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, উচ্চ সুদের হার ও বৈশ্বিক প্রভাব দেশের বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ পরিস্থিতিতে অংশীজনদের সঙ্গে কোনো মতবিনিময় ছাড়াই মূসক ও সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী হবে বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী সংস্কার পরিষদ (এফবিসিসিআই) নেতারা।
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে বৈষম্যবিরোধী সংস্কার পরিষদ (এফবিসিসিআই) আয়োজিত ‘নিয়ম বহির্ভূতভাবে পণ্য ও সেবার ওপর মূল্যসংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি এবং গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবের প্রতিবাদে’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বৈষম্যবিরোধী সংস্কার পরিষদের (এফবিসিসিআই) আহ্বায়ক জাকির হোসেন নয়ন। তিনি বলেন, ‘আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, চলতি অর্থবছরের মাঝপথে এসেই শতাধিক পণ্য ও সেবার ওপর মূল্যসংযোজন কর (মূসক) ও সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে সরকার গেজেট প্রকাশ করেছে। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা না করেই মূসক ও সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করায় ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির জন্যও সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। হঠাৎ এ করারোপ এবং গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দেশের সার্বিক জাতীয় অর্থনীতির ওপর প্রচ-ভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম হায়দার বলেন, এখন বাজারের দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী, এ মুহূর্তে তারা (সরকার) কর আরোপ করল কেন? এটা একদমই অনুচিত। আইএমএফের সঙ্গে সরকার নেগোশিয়েট করতে না পেরে এখন আমাদের ঘাড়ে করের বোঝা চাপাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইর সহায়ক অ্যাসোসিয়েট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ও বারভিডার সভাপতি আবদুল হক, বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি মো. ওসমান গনি, এফবিসিসিআইয়ের সদস্য আতিকুর রহমান প্রমুখ।
শুল্ক কর বৃদ্ধিতে ফিকির উদ্বেগ : নানাবিধ পণ্যে ভ্যাট/সম্পূরক শুল্ক (এসডি) বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগে (এফডিআই) নেতৃত্ব প্রদানকারী শীর্ষ সংগঠন ফরেন ইনভেস্টরস’ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)। গতকাল এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, দেশের মোট সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ৯০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে ফিকি। টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ উচ্চ-রাজস্ব প্রদানকারী খাতগুলো সম্মিলিতভাবে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ রাজস্বের প্রায় ৩০ শতাংশ অবদান রাখে। ভ্যাট, শুল্ক এবং অন্যান্য কর বৃদ্ধির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ভোক্তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি দেশে ব্যবসা পরিচালনার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। এই পদক্ষেপ কর রাজস্ব প্রদানকারী এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকারী ব্যবসাগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা ও কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতাকে হুমকির মুখে ফেলবে। পর্যাপ্ত গবেষণা বা অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নীতি প্রণয়ন বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং ভবিষ্যতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করবে। পাশাপাশি, গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা সংশোধনের আগে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা না করার বিষয়টি দেশীয় এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে নেতিবাচক বার্তা দেবে, যা দেশের ব্যবসার পরিবেশের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি করবে। তাই, ফিকি সরকারের প্রতি সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলো পুনর্বিবেচনা এবং পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছে। সরকারের উচিত ব্যবসায়িক কমিউনিটির সঙ্গে স্বচ্ছ ও গঠনমূলক সংলাপকে অগ্রাধিকার দেওয়া, যাতে কর নীতি সংশোধনের প্রভাব সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা যায়। উল্লেখ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে আর্থিক দায়িত্বের সঠিক সমন্বয় সাধন করতে এবং বাংলাদেশকে বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে বজায় রাখতে নীতিমালা তৈরিতে সবার অংশীদারি অপরিহার্য।