আয় বাড়াতে শতাধিক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবায় মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ দুটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। একই সঙ্গে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ট্রাকে করে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি ফের চালুর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল রাজধানীতে নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠনটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। এ সময় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আখতার হোসেন করের বোঝা চাপিয়ে মানুষের ভোগান্তি না বাড়িয়ে বিগত সরকারের ১৫ বছরে বিদেশে পাচার হওয়া ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেরত আনতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া করে লোপাট করা ৯২ হাজার কোটি টাকা ও ২ লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, দেশে বিদ্যমান অর্থঋণ আদালতের আইনি সুযোগ ব্যবহার করে সরকার দ্রুত একটি ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে খেলাপি অর্থ আদায় ও অনাদায়ে তাদের সম্পত্তি ক্রোক করতে পারে।
তিনি বলেন, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর কারণে মূল্যস্ফীতি ও ব্যবসার খরচ বাড়বে। সাধারণ মানুষের জীবনমানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কর বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারকে স্মরণ রাখতে হবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যাতে না বাড়ে। আয় বাড়াতে সরকার প্রত্যক্ষ করের আওতা বাড়াতে পারে। বিদ্যমান কর কাঠামোর সীমাহীন দুর্নীতি বন্ধ করলেও রাজস্ব বাড়বে।
আখতার হোসেন বলেন, বিগত অবৈধ সরকার আইএমএফের কাছ থেকে ৪.৭ বিলিয়ন ডলার ঋণসহায়তা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই ঋণের শর্ত মানতে অন্তর্বর্তী সরকার ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সৃষ্ট সরকার একটি অবৈধ সরকারের চুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জনগণের দুর্ভোগ বাড়াতে পারেন না। বর্তমান সরকারের কাছে প্রশ্ন- তারা কি ঋণের শর্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আইএমএফের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে? ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে ট্রাকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি বন্ধ করায় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা কল্পনা করতে পারি না জনগণের প্রতি কতটা দায়হীন অনুভব করলে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে! প্রান্তিক মানুষকে রাষ্ট্রের কাছ থেকে ন্যূনতম যে অধিকার তা-ও ট্রাক সেল বন্ধ ঘোষণার মাধ্যমে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।