ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মধ্যে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় উঠে আসে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গও। ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এরিক গ্রাসেটটি ভারতীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এ তথ্য জানান। জানা যায়, ৬ জানুয়ারি ভারতে আসেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান। সফরকালে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে অংশ নেন দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত গ্রাসেটটিও।
রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকে আলোচনার বড় অংশ ছিল বাংলাদেশ পরিস্থিতি। বাইডেন প্রশাসন ও নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তিনি বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এজন্য বাংলাদেশকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায় তা-ও উঠে আসে বৈঠকে। আমরা সবাই গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধিশালী ও সহনশীল বাংলাদেশ চাই। তবে দুই দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিবৃতিতে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ উল্লেখ ছিল না। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উভয় দেশ দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করে। এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক-পরবর্তী বিবৃতিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গত সপ্তাহে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেছিলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল এবং অন্তর্মুখী বাংলাদেশ চাই। ভারত চায় বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক মর্যাদা, উভয়ের উদ্বেগের বিষয়ে পারস্পরিক সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে ইতিবাচক ও গঠনমূলক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক।’
হাসিনাকে উৎখাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নেই -জ্যাক সুলিভান : বাংলাদেশে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার অভিযোগকে অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান। তিনি বলেন, ঢাকার ঘটনার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হাত ছিল না। ভারতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ ধরনের অভিযোগ বিশ্বাস করে না।
স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে হোয়াইট হাউসের রুজভেল্ট রুমে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সাম্প্রতিক ভারত সফর, মার্কিন-ভারত সম্পর্ক ও বাইডেন পরবর্তী ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য কার্যকলাপ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন জ্যাক সুলিভান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ডিপ স্টেটের নেতৃত্ব দিচ্ছে এমন ধারণা আমি বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করছি। বাংলাদেশে সরকার উৎখাতের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত ছিল এমন অভিযোগও অযৌক্তিক। আমি ভারতের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এটুকু বুঝেছি, তারাও এ ধরনের অভিযোগ বিশ্বাস করেন না। প্রসঙ্গত, বিভিন্ন সভাসমাবেশে বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের পেছনে মার্কিন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতীয় অনেক রাজনীতিবিদ। পাশাপাশি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে গত কয়েক মাস ধরে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাকে দায়ী করে খবর প্রচার করা হয়। যেখানে দাবি করা হয়, বাইডেন প্রশাসন বাংলাদেশের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করেছে। আর এতে ঢাকায় নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের মিত্র শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে।