শরীয়তপুরের জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল আমিনের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ তাঁর স্বজনরা। শোকের ছায়া নেমে এসেছে আল আমিনের গ্রামের বাড়ি বরিশালের মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কাজীরচরে। তিনি ওই গ্রামের মরহুম হাজি বেলায়েত হোসেন বেপারীর ছেলে। তিনি গ্রামেই শৈশব-কৈশোর কাটিয়েছেন।
আল আমিনের পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন তিনি। আল আমিন ও স্ত্রী শরিফুন্নেছা দম্পতির রাদিয়া ও রাফিয়া নামে যমজ দুই কন্যা সন্তান আছে। তারা রাজধানীর ভিকারুন নেসা নূন স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।
আল আমিনের মেজো ভাই মধুমতী ব্যাংকের কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, ‘কিছুদিন ধরেই আল আমিন মানসিক চাপে ছিলেন। তবে কোন বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন, তা কারও সঙ্গে শেয়ার করেননি।
আল আমিনের লাশের সঙ্গে পুলিশ লাইনসে আসেন স্ত্রী, দুই শিশু কন্যা ও বড় ভাই আবুল কালাম। তিনি বলেন, পুলিশ জানিয়েছে আল আমিন হতাশায় ভুগেছে। এ কারণে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু আমরা কোনো হতাশায় ভোগার কথা জানতাম না। সে পারিবারিকভাবে কোনো বিষয় নিয়ে হতাশাগ্রস্ত ছিল না। কাজীরচর গ্রামে আল আমিনের প্রতিবেশী মামুন মাতুব্বর বলেন, ‘আল আমিন এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন, কল্পনাও করতে পারিনি। গ্রামের মানুষ হতবিহ্বল। তিনি ভালো মানুষ ছিলেন। গ্রামের মানুষের সঙ্গে ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। ভালো-মন্দের খোঁজ নিতেন। বিপদে-আপদে সাহায্য করতেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে জাজিরা থানা ভবনের দ্বিতীয় তলার নিজ কক্ষ থেকে আল আমিনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ উজ জামানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের একজন সহকর্মীকে এভাবে বিদায় জানাতে হবে তা কখনো ভাবিনি। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হচ্ছে। তার পরও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। আল আমিনের ব্যাচমেট বরিশাল বন্দর থানার সাবেক ওসি ও বর্তমানে মুক্তাগাছায় কর্মরত এপিবিএনে কর্মরত পরিদর্শক এ আর মুকুল তাঁর ফেসবুকে কয়েকটি ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি দিয়ে একটি পোস্ট করেন। এতে তিনি লিখেছেন?, ‘কী এমন হলো তোমার বন্ধু যে ফুটফুটে বাচ্চা দুটোর কথাও তুমি ভাবলে না! কী কষ্ট বুকে চেপে তুমি চলে গেলে বন্ধু, আমাদের বুঝতেও দিলে না?