মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতির মধ্যে নতুন করে অর্ধশতাধিক পণ্য ও সেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) এবং সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়েছে সরকার। গতকাল রাতে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং দ্য এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করা হয়। এরপরই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট বিভাগ এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। ফলে এই অধ্যাদেশের পরিবর্তনগুলো সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়ে গেছে।
সরকারের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। তারা বলেছেন, বর্ধিত কর আরোপের ফলে পণ্য ও সেবার খরচ বাড়বে। ব্যয় বাড়বে ভোক্তাদের। ভ্যাট হার ও শুল্ক বাড়ানোর ফলে মূল্যস্ফীতিই যে শুধু বাড়বে তা নয়, ভ্যাটের বিধিবিধান মানতে না পেরে অনেক ছোট ব্যবসা বন্ধ করে দিতে পারেন উদ্যোক্তারা। ফলে বেকার হয়ে পড়বে অনেক কর্মী। দেশের অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভ্যাট হার বাড়ানোর ফলে জিনিসপত্রের দাম আরেক দফা বাড়বে। এ উদ্যোগ মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে। এতে নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনযাপন আরও কঠিন হয়ে পড়বে। এনবিআর বলছে, স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ, ওষুধের ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। এলপি গ্যাসের স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট ২ শতাংশ বাতিল করা হয়েছে। সিগারেটের চারটি স্তরে দাম ও শুল্ক- দুটিই বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক লেনদেন ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকা হলেই টার্নওভার কর দিতে হতে পারে। বার্ষিক লেনদেন ৫০ লাখ টাকা পেরোলে পণ্য ও সেবা বেচাকেনায় ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট বসতে পারে। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিমান টিকিটের দাম বৃদ্ধিরও প্রস্তাব দিয়েছে এনবিআর।