সিলেটে অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলেন নুরুল হাসান সোহান। রংপুর রাইডার্সের অধিনায়কের ৪৫৭.১৪ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসটিকে দুর্দান্ত, চোখ ধাঁধানো, নজরকাড়া বলাই যায়। আরও রকমারি বিশেষণে সাজানো যেত সোহানের ৭ বলে ৩২ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংসটিকে। তার টর্নেডো ব্যাটিংয়ে ফরচুন বরিশালের বিরুদ্ধে হারা ম্যাচ জিতেছে ৩ উইকেটে। বিপিএলে টানা ৬ জয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে নুরুল হাসানের রংপুর রাইডার্স। বিপিএলের চলতি আসরে দুবার ফরচুন বরিশালকে হারিয়েছে রংপুর রাইডার্স। ঢাকা পর্বে হারিয়েছিল ৮ উইকেটে। ফরচুন বরিশালের ছুড়ে দেওয়া ১৯৮ রানের টার্গেট টপকাতে রংপুরের শেষ ২ ওভারে দরকার ছিল ৩৯ রান। ইনিংসের ১৯ নম্বর ওভারে খুশদিল শাহ টানা দুই ছক্কা মারেন। ওই ওভারেই ‘অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড’ হয়ে সাজঘরে ফিরতে পারতেন সোহান। কিন্তু এমসিসির প্লেয়িং কন্ডিশন ৩৭.৩ ধারায় আউট হন শেখ মেহেদি হাসান। আউট হতে হতে বেঁচে যান সোহান। এরপরই বাজিমাত করেন। টানা ষষ্ঠ জয় পেতে শেষ ওভারে রংপুরের দরকার দাঁড়ায় ২৬ রান। যে কোনো বোলারের বিরুদ্ধে ২৬ রান তোলা কঠিন। সেই কঠিন কাজটি অবলীলায় করেছেন রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। এমন সমীকরণের ম্যাচে অকেশনাল সিমার কাইলি মায়ার্সের হাতে বল তুলে দেন ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এর আগে নিজের প্রথম ওভারে ৩ রান দেন। ম্যাচের শেষ ওভারে বোলিং করেই ছন্দ হারিয়ে ফেলেন। সোহান তার ওভারে তুলে নেন ৩০ রান। এক ওভারে তার শটগুলো যথাক্রমে ৬, ৪, ৪, ৬, ৪, ৬। বিপিএলে এর আগে আর কোনো ব্যাটার শেষ ওভারে ৩০ রান নিতে পারেননি। সোহান ফিনিশ করেছেন। ইফতেখার ও খুশদিল চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৮১ রান যোগ করে মাত্র ৫৩ বলে। দুজনই সাজঘরে ফেরেন ৪৮ রান করে। এর আগে তামিমের বরিশাল ৫ উইকেটে ১৯৭ রান করে।
ঢাকার টানা পাঁচ হার : এদিকে দিনের আরেক ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৭ উইকেটের জয় পেয়েছে চিটাগং কিংস। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে তানজিদ ও সাব্বিরের দুই হাফ সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেটে ১৭৭ রান করে ঢাকা। জবাবে ৩ বল বাকি থাকতে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় চিটাগাং। উসমান খান সর্বোচ্চ ৫৫, গ্রাহাম ক্লার্ক ৩৯, মিঠুন ৩৩ ও শামীম ৩০ রান করেন। ম্যাচসেরা হন খালেদ আহমেদ।