স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিচার কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে ১১টি বিষয় প্রাধান্য দিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করছে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে পাওয়া প্রায় ১৫ হাজার মতামত পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হচ্ছে। প্রাধান্য পাওয়া ১১ বিষয়ের বাইরে অন্তত আরও ১৪টি বিষয় যুক্ত হচ্ছে প্রতিবেদনে। সেগুলো সমন্বয় করে সারসংক্ষেপ আকারে কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে। কমিশন সূত্র বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রকাঠামোতে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে বিচার বিভাগসহ ১০টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। এর মধ্যে গত ৩ অক্টোবর আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমানের নেতৃত্বে আট সদস্যের বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন গঠন করে সরকার। ৯০ দিনের মধ্যে এ কমিশনকে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। গত ২ জানুয়ারি ৯০ দিন শেষ হয়েছে। তবে এখনো প্রতিবেদন প্রস্তুত না হওয়ায় আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে কমিশনের মেয়াদ। চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরির আগে কমিশনের পক্ষ থেকে ১৪ পৃষ্ঠার একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এর অনুলিপি গত মাসে সরকারের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেই প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, প্রধান বিচারপতি নিয়োগে রাষ্ট্রপতির স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগের বিলোপ চাইবে বিচার সংস্কার কমিশন। কমিশন মনে করে, ‘সংবিধানে এই মর্মে বিধান থাকা প্রয়োজন যে, রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের কর্মে প্রবীণতম বিচারককে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করবেন।’ এ ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের বিচারপতির সংখ্যা হবে সাতজন এবং প্রধান বিচারপতির চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনে অধিকসংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ করা হবে। একইভাবে প্রধান বিচারপতি ছাড়া অন্যান্য বিচারক নিয়োগে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ৯ সদস্যের ‘সুপ্রিম কোর্ট জাজেস অ্যাপয়েন্টমেন্ট কমিশন’ গঠন এবং ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরে হাই কোর্টের সার্কিট বেঞ্চ স্থাপন, বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতেও কমিশনের প্রতিবেদনে নানা প্রস্তাব থাকছে। প্রতিবেদনে প্রাধান্য পাওয়া ১১ বিষয়ের মধ্যে রয়েছে উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগে আইন প্রণয়ন, অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরিবিধি-শৃঙ্খলা নির্ধারণের মাধ্যমে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা, সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় স্থাপন, বিনামূল্যের আইনি সহায়তা কার্যক্রমকে (লিগ্যাল এইড) যুগোপযোগী ও গতিশীল করা, আদালতের আইন কর্মকর্তা নিয়োগে স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস প্রতিষ্ঠা, স্বাধীন তদন্ত সংস্থা গঠন, আদালতের বাইরে মামলা নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত বিকল্প বিরোধ (এডিআর) নিষ্পত্তিব্যবস্থাকে গতিশীল ও কার্যকর করা, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আদালতগুলোকে ডিজিটাইজেশনের আওতায় উন্নতকরণ, বিচারক ও আইনজীবীদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, আদালতের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আদালত ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে মামলাজট নিরসন করা। এ বিষয়ে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সদস্য মাসদার হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে পাওয়া মতামত পর্যালোচনা করে আমরা প্রতিবেদন তৈরির কাজ করছি। প্রতিবেদন দাখিলের সময় আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।