জুলাই ঘোষণাপত্রে গণহত্যার বিচার, সংস্কার, গণপরিষদের নির্বাচন এবং শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়াসহ সাতটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ, মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। এ সময় ‘জুলাইয়ের প্রেরণা, দিতে হবে ঘোষণা’ স্লোগান দেন নেতা-কর্মীরা। এদিকে, একই দাবিতে রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানেও জনসংযোগ কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠন দুটি।
গতকাল দুপুুরে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরে লিফলেট বিতরণ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠন দুটি। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা ও জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, জুলাইতে গণবিপ্লব হয়েছে, এটা যদি ঘোষণা না হয় বা আইনগত ও সাংবিধানিক ভিত্তি না পায়, তাহলে অংশগ্রহণকারীরা প্রত্যেকেই নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়বেন। এ ছাড়া লিফলেট বিতরণ হয় যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা ও মোহাম্মদপুর এলাকায়। মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক হান্নান মাসউদের নেতৃত্বে লিফলেট বিতরণ করা হয়। এখানে উল্লেখ্য, সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে জুলাই ঘোষণাপত্রের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে ৬ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে জনসংযোগ কর্মসূচি হচ্ছে। যা ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগঠন দুটির জনসংযোগ কর্মসূচি নিয়ে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর নিচে তুলে ধরা হলো :
আমাদের সাভার প্রতিনিধি জানান, জনসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এবং বিকালে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ সময় সংগঠন দুটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নেতা-কর্মীরা জনসংযোগের পর বিক্ষোভ মিছিলও করেন। নরসিংদী প্রতিনিধির পাঠানো খবরে বলা হয়, গতকাল দুপুরে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা ইটাখোলা মোড়ে লিফলেট বিতরণ হয়। এ সময় জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ’৭১ যেমন আমাদের শিকড় হিসেবে সংবিধানে স্বীকৃতি পেয়েছে, ’২৪-ও আমাদের অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে সংবিধানে ঠাঁই পাবে। জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের বিষটি একটি লিখিত আকারে থাকুক। এ ঘোষণাটা লিখিত আকারে সংবিধানে স্থান দেওয়া হোক। দিনব্যাপী নরসিংদীর শিবপুর, সদরসহ বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র দিতে হবে -হাসনাত আবদুল্লাহ : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘সরকার ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের উচিত ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্রের ব্যবস্থা করা। যেখানে সরকার থেকে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ছিল কিন্তু তা নেওয়া হয়নি। তাই আমরা এ বিপ্লবের ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে গিয়েছি। কিন্তু সরকার যেহেতু নিজেই দায়িত্ব নিয়েছে সব রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই ঘোষণাপত্র ঘোষণা করবে, তাই আমরা ৩১ ডিসেম্বর ঘোষণাপত্রটি ঘোষণা করিনি। আমরা রাজনৈতিক ঐকমত্যকে প্রাধান্য দিয়েছি। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো ৩১ ডিসেম্বরের পর এতদিন কেটে গেলেও সরকার এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। তাই আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, যারা এই ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তাদের সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছিল, গণ অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিল, সেসব মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র ঘোষণা করতে হবে। গতকাল কুমিল্লা নগরীতে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের সমর্থনে জনসংযোগ শেষে শহরের টাউন হল মাঠে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
এর আগে পুলিশ লাইনস থেকে শুরু করে কান্দিরপারসহ নগরীর বিভিন্ন সড়কে জনসংযোগ করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘ঘোষণাপত্রে অবশ্যই শহীদ ও আহতদের স্বীকৃতি দিতে হবে। ’৪৭, ’৭১ ও ’২৪-এর যে ধারাবাহিকতা, সেখানে সুস্পষ্ট তার বর্ণনা থাকতে হবে। আর সেটাতে আমরা কোন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছি, তার বর্ণনা থাকতে হবে। যে রাজনৈতিক দলগুলো অংশগ্রহণ করেছে, তাদের অংশগ্রহণের স্বীকৃতি সেখানে থাকতে হবে। জনগণের যে আকাক্সক্ষা, ফ্যাসিবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে সে আকাক্সক্ষার প্রতিফলন এই ঘোষণাপত্রে থাকতে হবে। আমরা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলে ঘুরে বেড়াব এবং সাধারণ মানুষ যারা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল তারা এই ঘোষণাপত্রে কী চায়, আমরা তা তুলে ধরব। যাতে ’২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ মাথা চাড়া না দিতে পারে।’