স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, সংসদীয় পদ্ধতিতে সব নির্বাচনের প্রস্তাব দেওয়া হবে। এ উদ্দেশ্যে আমরা একটি একীভূত আইন করতে চাই। অকার্যকর পৌরসভাগুলোকে বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হতে পারে। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহের মধ্যে আমরা আমাদের প্রস্তাব সরকারের কাছে দিতে চাই। নির্দিষ্ট করে বললে ২৪ ফেব্রুয়ারি।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের (এনআইএলজি) সম্মেলন কক্ষে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, জাতীয় পর্যায়ে সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হলেও ঢাকার বাইরে মানুষের মতামতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রাধান্য পাচ্ছে। সেখানে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় করা, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো, সংসদ সদস্যরা যাতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন- সে ব্যবস্থা করার প্রস্তাব আসছে। তিনি আরও বলেন, যেসব সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে ভাবা হচ্ছে তার মধ্যে আছে, স্থানীয় সরকারে চেয়ারম্যান বা মেয়র পদে সরাসরি নির্বাচন না করে শুধু সদস্য নির্বাচন করার পর সদস্যরাই একজন মেয়র বা চেয়ারম্যান নির্বাচন করবেন। এ ছাড়া দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের পদ্ধতি বাদ দেওয়া, সদস্যপদে নির্বাচন উন্মুক্ত করে দেওয়া যাতে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীসহ সবাই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন, সব ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি একীভূত আইন করা। জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, স্থানীয় সরকার নির্বাচন একেকটা একেক ধরনের নির্বাচন ব্যবস্থা। আমরা এই ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে চাই। এ জন্য আমরা সংসদীয় পদ্ধতিতে সব নির্বাচন করার প্রস্তাব দেব। এ ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, পৌরসভাগুলোর আয় নেই, বেশির ভাগের বেতন বাকি আছে। তাই অকার্যকর পৌরসভাগুলোকে বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হতে পারে।
স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের প্রধান বলেন, ২০২১ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে খরচ হয়েছে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা। সমন্বিতভাবে যদি এই নির্বাচন করা হয়, তাহলে খরচ ৬০০ কোটি টাকার নিচে নেমে আসত। সংসদসহ সব নির্বাচন একসঙ্গে করা হলে মোট খরচ ১ হাজার কোটি টাকার মতো হতে পারে। তাই আমাদের প্রস্তাব হবে সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করে ফেলা।