জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম বলেছেন, যে চাকরিপ্রার্থী নিজ যোগ্যতায় প্রিলিমিনারি, রিটেন, ভাইভা পাস করে সুপারিশপ্রাপ্ত হয় এবং তার যদি পূর্বে কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকে তাহলে তাদের বাবা, চাচা, মামা, নানার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হবে কেন? গতকাল সমাজমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড প্রোফাইলে এক পোস্টে এ প্রশ্ন করেন তিনি। পোস্টে সারজিস আলম লেখেন, ‘আমি কী করব সেটা কি আমার চাচা নির্ধারণ করতে পারেন? কিংবা আমার চাচা কী করবেন সেটা কি আমি নির্ধারণ করতে পারি? একটা সময় পরে সবাইকে ব্যক্তিগত জীবন গোছাতে হয়। ইভেন (এমনকি) আমার বাবার রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে আমার চিন্তাভাবনার মিল না-ও থাকতে পারে। তাহলে পরিবারের কোনো একজন সদস্যের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডের কারণে অন্য একজন সদস্যকে বঞ্চিত করার অধিকার রাষ্ট্র পায় কি না?’ ৪৩তম বিসিএসের সুপারিশপ্রাপ্তদের পুনরায় ভ্যারিফিকেশন হয়েছে। ১৬৮ জনকে এ ধাপে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ভ্যারিফিকেশন মিলে মোট বাদ পড়েছেন ২৬৭ জন উল্লেখ করে সারজিস দাবি করেছেন, ‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখানো হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার নেগেটিভ রিপোর্ট। অর্থাৎ পলিটিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড।’ ‘কিন্তু এখানে অনেক প্রশ্ন আছে’ মন্তব্য করে তিনি লেখেন, ‘আওয়ামী লীগের সময়ে আওয়ামী লীগ পরিবার ব্যতীত অন্যান্য পলিটিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা যে-কারও জন্য এই প্রথম শ্রেণির সরকারি ভালো চাকরি পাওয়া কঠিন বিষয় ছিল। একই ধরনের একটি চিত্র যদি এখন দেখা যায় তাহলে পার্থক্যটা কোথায়?’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস পোস্টে আরও লেখেন, ‘সবচেয়ে বাজে ব্যাপারটা এবার হয়েছে যে গোয়েন্দা সংস্থার অনেকে গিয়ে এবার ইউনিয়ন আর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি, সেক্রেটারির কাছে বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত চাকরিপ্রার্থীদের পরিবারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা জানতে চেয়েছেন!
তার মানে সারা জীবন অধ্যবসায় করা বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েট এক মেধাবী তরুণ প্রায় তিন বছর দিনরাত এক করে পড়াশোনা করার পর প্রিলি-রিটেন-ভাইভা পাস করে ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর কোনো এক ওয়ার্ড সভাপতি, সেক্রেটারির মতামতের কাছে জিম্মি হয়ে যাবে? সে তার কর্ম নির্ধারণ করবে? তাহলে এত আয়োজনের কী দরকার ছিল? এ ভ্যারিফিকেশন তো তাহলে প্রিলির আগে হয়ে যাওয়া উচিত। তাহলে তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো নষ্ট হতো না। আর কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে সে এ মতামত দেয়? স্থানীয়ভাবে এমনিতেই নেতিবাচক একটা পলিটিকস দেখা যায়, কে কারে ল্যাং মেরে উঠতে পারে! যদি একজন চাকরিপ্রত্যাশী এমন স্থানীয় পলিটিকসের শিকার হয় তাহলে সে দায় সরকার নেবে কি না?’