চলতি বছরের ডিসেম্বর বা আগামী বছরের মাঝামাঝি পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন হতে পারে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল বাংলাদেশ সফররত ব্রিটিশ সংসদ সদস্য রূপা হককে নির্বাচনের এ সম্ভাব্য সময় জানান তিনি। এ সময় আগামী জাতীয় নির্বাচন সম্পূর্ণ অবাধ এবং সুষ্ঠু হবে বলেও ব্রিটিশ ওই এমপিকে আশ্বস্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা।
রূপা হক গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁদের মধ্যে আগামী নির্বাচন, গণ অভ্যুত্থানসহ নানা ইস্যুতে আলাপ হয়। এ সময় ড. ইউনূস বলেন, গত তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। সেখানে ছিল একটি ভুয়া সংসদ, ভুয়া এমপি এবং ভুয়া স্পিকার। জোরপূর্বক দেশের মানুষের বাক্স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। মানুষ এখন তাদের কণ্ঠ ফিরে পেয়েছে। রূপা হক পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ, অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার উদ্যোগ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় অধ্যাপক ইউনূস তাঁকে জানান, পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের জন্য দুটি সম্ভাব্য সময়সীমা রয়েছে। এটা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর বা ২০২৬ সালের মধ্যভাগে হতে পারে। তবে নির্বাচনের তারিখ নির্ভর করছে মানুষ কতটা সংস্কার চায় তার ওপর। প্রধান উপদেষ্টা রূপা হককে জুলাই গণ অভ্যুত্থানে কী ঘটেছিল এবং অপসারিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে জনগণের ওপর কীভাবে নিপীড়ন চালানো হয়েছিল সে সম্পর্কে অবহিত করেন। রূপা হক নির্বাচনের পর্যবেক্ষক হিসেবে আবারও বাংলাদেশে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের, ডেপুটি হাইকমিশনার ও উন্নয়ন পরিচালক জেমস গোল্ডম্যান।
এর আগে রূপা হক যুক্তরাজ্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ চৌধুরী এবং এসডিজিবিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মুর্শেদের সঙ্গে বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে বৈঠক করেন। বর্তমানে ইউকেবিসিসিআইয়ের একটি প্রতিনিধিদল তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে রয়েছে। ইউকেবিসিসিআইয়ের চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ এবং প্রেসিডেন্ট এম জি মওলা মিয়া প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। লুৎফে সিদ্দিকী যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ীদের বিশেষত বাংলাদেশি বংশো™ূ¢তদের নিজ দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।