রাজধানীতে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। সেই সঙ্গে থেমে থেমে বইছে হিমেল হাওয়া। দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন পুরো নগরী। এতে অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা না মেলায় রাজধানীতে কমেছে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান। এ অবস্থা আরও তিন-চার দিন থাকতে পারে।
গতকাল সকাল থেকেই ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল ঢাকা। সারা দিনেও সূর্যের দেখা মেলেনি। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় মানুষ তেমন ঘরের বাইরে বের হয়নি। যারা বের হয়েছে তারাও শীত থেকে রক্ষা পেতে মোটা শীতবস্ত্র ব্যবহার করেছে। এমন শীতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষেরা। পর্যাপ্ত শীতের পোশাক না থাকায় কনকনে ঠান্ডা নিয়েই কাটাতে হচ্ছে তাদের। কেউ কেউ আবার ঠান্ডা থেকে বাঁচতে আগুন পোহাচ্ছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য ২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান বলেন, সাধারণত জানুয়ারিতে রাতের তাপমাত্রা কমে যায় এবং দিনে সূর্যের তাপের কারণে তাপমাত্রা বাড়ে। কিন্তু গত দুই দিনে কুয়াশার কারণে দিনের বেলা সূর্যের তাপ না পড়ায় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কমে গেছে। এ কারণে শীতের অনুভূতি বেশি হচ্ছে। তবে এই অবস্থা সোম-মঙ্গলবারের মধ্যে কেটে যাবে। তখন তাপমাত্রা কিছুটা বাড়বে। গতকাল সারা দেশের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নদী পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িক ব্যাহত হতে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা দেশের পশ্চিমাংশে ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে। তা ছাড়া দেশের অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। ঘন কুয়াশার কারণে সারা দেশের কোথাও কোথাও দিনের বেলা শীতের অনুভূতি বিরাজ করতে পারে।