ঢাকাই সিনেমার অন্যতম চিত্রনায়ক নিরব। র্যাম্প মডেল থেকে টিভি নাটক, এরপর চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু। দীর্ঘ সিনেমা ক্যারিয়ারে বৈচিত্র্যময় ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করেছেন। নতুন বছরেও নতুন ছবি ‘গোলাপ’ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। শোবিজের বিভিন্ন বিষয় ও সাম্প্রতিক ব্যস্ততা নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন- পান্থ আফজাল
গোলাপের সুবাস কেমন ছড়াচ্ছেন?
খুবই ভালোমতো ছড়াচ্ছি...হাহাহা। আমার কাছে মনে হয়, প্রথম লুকে যে ভালো ফিডব্যাক পেয়েছি সেটা আসলে ডিজার্ভ করি। এমন তো নরমালি এখন হয় যে ছবি তুললাম, ডিরেক্টরের সঙ্গে ছবি তুলে আপ দিলাম। সেটা গোলাপের ক্ষেত্রে হয়নি। ৪-৫ রাত জেগে কাজ করেছি, ক্রিয়েটিভ কনসেপ্ট নিয়ে ফটোশুট করেছি এ প্রজেক্টের জন্য। এক্ষেত্রে ধন্যবাদ দিতে চাই ডিরেক্টর সামছুল হুদা, প্রডিউসার দিদার, মেকআপ-হেয়ার স্টাইলিশ শামিম আর ফটোগ্রাফার নূরকে। আমি আমেরিকা থেকে এসেই ডিসেম্বরের ১৩ তারিখ শুট করেছি। একটু সময় নিয়ে করতে চেয়েছি যেন কাজটি ভালো হয়। আমি মনে করি, কাজটি তখনই সাকসেস হবে যদি দর্শকদের ভালো রেসপন্স পাই।
তাহলে কি এ মাসেই শুটিং?
একটু পিছিয়েছি। সেটাও প্রায় এক মাস ১০ দিন পিছিয়েছে। তাই ফেব্রুয়ারির ২৫ নয়; এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে শুটিং শুরুর প্ল্যান রয়েছে।
প্রথমবার ডানাকাটা পরীর সঙ্গে...
হ্যাঁ, সিনেমায় প্রথমবার কাজ করা হবে পরীর সঙ্গে। এখানে আমি গোলাপ আর ওর নাম ডানা। আমি মনে করি গল্প, চরিত্র ও নির্মাণ যদি সঠিকভাবে হয় তাহলে সবাই গোলাপ-ডানাকে ডিফারেন্ট আবহে দেখবে। আপনারা যদি পরীর লাস্ট কয়েক বছরের কাজ দেখেন তাহলে বুঝতে পারবেন, সে অফট্রাক বা সেমি কমার্শিয়াল কাজগুলোই বেশি করেছে। অন্যদিকে এবার সে আলাদাভাবে সামনে আসবে। একটু নাচে-গানে ভরপুর কমার্শিয়াল সিনেমায়। যা আমি সবসময় চাই।
দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে এক্সপেরিমেন্ট করছেন...
সবসময় দেখবেন একেকটি সিনেমায় ভিন্ন লুকে পর্দায় এসেছি আমি। যেমন- রোজিনা আপার সিনেমায় গ্রাম্য ছেলের লুকে, মামুনের ‘অমানুষ’-এ চুল ছেঁটে অন্যরকম লুকে, এমনিভাবে সাইফ চন্দনের আব্বাস, বুবলীর সঙ্গে ‘কয়লা’ (আসবে) বা সৈকত নাসিরের ‘ক্যাসিনো’তে ভিন্ন লুকে হাজির হয়েছি। সো গোলাপ সিনেমার লুক ও চরিত্র একটু অন্যরকম।
২২ বছর পর নোবেল-মৌ এর বিজ্ঞাপনের রিমেক করেছেন। কেমন লেগেছে?
রাত ১২টার দিকে এ বিজ্ঞাপনটি করার অফার আসে, সঙ্গে থাকবে কেয়া পায়েল। যেহেতু নোবেল-মৌ ভাইয়ের বিজ্ঞাপনের রিমেক, না বলার কোনো কারণ দেখিনি। আমি যখন মডেলিং করতে আসি, সেসময় নোবেল ভাই ছিলেন বিজ্ঞাপন জগতের আইকন। সুপার-ডুপার হিট। এখনো তাঁর আবেদন কমেনি। তিনি ছিলেন আমার কাছে স্বপ্নের মতো। এরপর নোবেল ভাইয়ের সঙ্গে অমিতাভ রেজার একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেছিলাম।
কেন সবাই বলে ইন্ডাস্ট্রিতে নায়িকা সংকট?
নায়িকা কম। কাজের সময় পাওয়া যায় না। একটি সিনেমা বানাবে কাকে নিয়ে? ঠিকঠাক কাজ করার মতো তো কেউ নেই আসলে।
আপনার বন্ধু ইমনও ওটিটিতে কাজ করেছেন। আপনি কবে করবেন?
আমি করতে চাই না। আমি সিনেমার নায়ক; নায়কই থাকতে চাই। আইডেন্টিটি একটাই থাকুক। এরই মাঝে কিছু শুট, ব্র্যান্ড ইন্ডোরসমেন্ট, বিজ্ঞাপন করছি।
মাঝে তো দেশ-বিদেশে ট্যুর দিতে দেখা গেল...
গত বছর প্রায় সাড়ে চার মাস টানা দেশের বাইরে ছিলাম। ইন্ডিয়া, আমেরিকা, কাতার, দুবাই, ব্যাংকক গিয়েছি। চেনা মানুষের সঙ্গে সুন্দর সময় কেটেছে। তবে অবশ্যই কাজের মধ্যেই ছিলাম।
সংসার কেমন চলছে?
আলহামদুলিল্লাহ, ফাটাফাটি! আমাদের ১০ বছরের সংসার কিন্তু। ভালো তো থাকবই। একসঙ্গে আছি, সামনেও বাকিটা জীবন এভাবে দুজনে কাটাতে চাই।