গ্যাসসংকটের উদ্বেগজনক প্রভাব পড়েছে শিল্পাঞ্চলে। দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানিমুখী শিল্পসহ নানা কলকারখানায় উৎপাদন কমেছে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। বস্ত্র, সিরামিক, তৈরি পোশাক ইত্যাদি শিল্পের ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টে গ্যাসের চাপ হ্রাস পেয়েছে; মাঝেমধ্যে একেবারেই থাকছে না। অথচ গত ৯ বছরে দাম বেড়েছে প্রায় ৩৫০ শতাংশ। দেশে প্রায় দুই হাজার বস্ত্রকলের মধ্যে সাত শতাধিক স্পিনিং মিল। গ্যাসসংকটে এগুলোর অর্ধেকই বন্ধ হয়ে গেছে। সবগুলো চালু থাকলে কর্মসংস্থান হতো প্রায় এক লাখ মানুষের। এই সুযোগে প্রতিবেশী দেশ থেকে বৈধ-অবৈধভাবে সুতা আমদানি হচ্ছে। অন্যদিকে সিরামিকশিল্প পুরোপুরি গ্যাসনির্ভর। গ্যাস এ খাতে কাঁচামাল হিসেবে বিবেচিত এবং এর আর কোনো বিকল্প জ্বালানিও নেই। তাদের উৎপাদন ৫০ শতাংশে নেমে গেছে। অর্ধশতাধিক সিরামিক কোম্পানি পুনর্বিনিয়োগ বন্ধ করেছে। বেশ কটি নতুন কারখানা উৎপাদনেই যেতে পারেনি। মাসে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা লোকসানের শিকার এ শিল্প। একই সংকটে, বিশ্বব্যাপী চামড়াপণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হলেও তা আমাদের হাতছাড়া হচ্ছে। গত মাসে শিল্পবাণিজ্য-সংশ্লিষ্ট চারটি প্রধান সংগঠনের নেতারা যৌথভাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টাকে চিঠি দেন। তাতে জ্বালানিসংকটে শিল্পকারখানার সমস্যা, উৎপাদনে অনিশ্চয়তা ও আর্থিক ক্ষতির দিকগুলো তুলে ধরে সমাধান আশা করা হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি উন্নতির পদক্ষেপ লক্ষ করা যাচ্ছে না। পেট্রোবাংলা বলছে, পর্যাপ্ত এলএনজি আমদানি করা হলে অথবা নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পেলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। এদিকে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নে ব্যবসায়ীদের পুঁজি অর্ধেকে নেমে এসেছে। তাদেরই বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের ফসল শিল্পকারখানা জাতীয় অর্থনীতির চালিকাশক্তি। এগুলোতে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। কিন্তু নানা কারণে ব্যাংকগুলো এ সময় তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পারছে না। সব মিলে শিল্প খাত কঠিন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। কর্মসংস্থান, প্রত্যাশিত উন্নয়ন ও জাতীয় অর্থনীতির অভীষ্ট সমৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে এ খাতের সব সংকট দূর হওয়া প্রয়োজন। এ জন্য কার্যকর বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হোক। বিলম্বে ক্ষতিবৃদ্ধি; তাই শুভস্য শীঘ্রম।