ভরা মৌসুমেও চালের দাম বাড়ছে মোকামেই। স্বভাবতই তার প্রভাব পড়ছে পাইকারি ও খোলা বাজারে। শীত মৌসুমে সবজির দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে এলেও চালের বাজারে বেসামাল মূল্যবৃদ্ধি উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করছে ভোক্তাদের মধ্যে। রংপুরে গত এক সপ্তাহে ৫০ কেজির বস্তায় ৭০ থেকে ১২০ এবং কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে চালের দাম। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। আমদানি করা চালও দেশে পৌঁছেছে। সে চাল বাজারে বিক্রি না করে গুদামজাত করে রেখেছেন আমদানিকারকরা; ফলে ভরা মৌসুমেও চালের দাম মানুষের নাগালে থাকছে না। প্রতি বছর রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য উদ্বৃত্ত থাকে। অথচ আমনের ভরা মৌসুমে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে চালের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। ক্রেতা ও খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, হাতে গোনা কিছু অটো রাইস মিল ও মজুতদার সিন্ডিকেট করে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এ ছাড়া যারা ভারতসহ অন্য দেশ থেকে চাল আমদানি করেছেন, তারা গুদামজাত করে রাখায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে না। আমদানিকারক ও চালকল সিন্ডিকেটের কারণে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। চাল বাংলাদেশের মানুষের বহুল ব্যবহৃত খাদ্যপণ্য। চালের দাম ভরা মৌসুমে বৃদ্ধি পাওয়ায় অচিরেই তা নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাজারের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় সাধারণ ভোক্তারা পড়েছেন অসহায় অবস্থায়। জুলাই অভ্যুত্থানে সাধারণ মানুষ বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো রাজপথে নেমেছিল নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে। কিন্তু গত পাঁচ মাসে খাদ্যপণ্যসহ সব নিত্যপণ্যের দাম যে বেপরোয়াভাবে বেড়েছে তা সরকারি পরিসংখ্যানেও স্বীকার করা হয়েছে। নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়ার পরও মূল্যস্ফীতি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর নিত্যপণ্যের দাম কমার বদলে বাড়ার কারণে জনমনে যখন হতাশা বিরাজ করছিল তখন বাজারে শীতের সবজি জ্বালিয়েছিল আশার আলো। কিন্তু একই সময়ে ভরা মৌসুমে চালের দাম বৃদ্ধিতে মনে হচ্ছে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের আন্তরিকতা থাকলেও সক্ষমতায় ঘাটতি রয়েছে। নিজেদের সুনামের স্বার্থেই এ বিষয়ে প্রশাসনকে তৎপর হতে হবে। মূল্যবৃদ্ধির সিন্ডিকেটে আঘাত হানতে হবে শক্তভাবে।