চাঁদপুর জেলার ৪১ অবৈধ ইটভাটার মধ্যে দুই দিনে ৬টি অবৈধ ইটভাটা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। উচ্চ আদালতের নিদের্শনা বাস্তবায়নে রবিবার থেকে জেলা প্রশাসন এই কার্যক্রম শুরু করে। সোমবার (১০ মার্চ) দুপুরে অভিযানের অংশ হিসেবে ফরিদগঞ্জ উপজেলার অবৈধ ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে।
এসময় এসব ব্রিক ফিল্ড বুলডুজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া এবং দমকল বাহিনী পানি দিয়ে ভাটার চলমান আগুন বন্ধ করে দেয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের জেষ্ঠ্য সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক জেলার অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধ করার জন্য জেলা প্রশাসক বলেছেন। এরপরও যারা বন্ধ করছে না, তাদের ইটভাটাগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে এবং এই কাজ অব্যাহত আছে।
চাঁদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: মিজানুর রহমান বলেন, আমরা উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ শুরু করেছি। ইতোপূর্বে জেলা প্রশাসক ইটভাটা মালিকদের নিয়ে তার কার্যালয়ে বৈঠক করেছেন। ওই সময় তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন অবৈধ ও লাইসেন্স ছাড়া যেসব ভাটা রয়েছে সেগুলো বন্ধ রাখার জন্য। একই সাথে নির্দেশনা ছিলো যেসব ইটভাটা বন্ধ করবে না, সেগুলো পর্যায়ক্রমে আমরা বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
অভিযান বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, যেসব ইটভাটা জনবসতি বা স্কুল কলেজের সাথে আছে সেগুলো আসলেই আমাদের পরিবেশের জন্যে ক্ষতিকর। সরকার আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশের ক্ষতিকর ইটভাটাগুলো বন্ধ করে দেয়ার জন্যে। আমরা এসব ইটভাটার মালিকদের সরকারে এই ম্যাসেজটা জানিয়েছি, কিন্তু তারা তা কর্ণপাত করেনি। সম্প্রতি উচ্চ আদালত আমাদের নির্দেশনা দিয়েছে যে আগামী ১৭ তারিখের মধ্যে যত লাইসেন্স বিহীন অবৈধ ইটভাটা রয়েছে, সেগুলোকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে হবে।
উচ্চ আদালতের নির্দেশক্রমে জেলায় যতগুলো অবৈধ ইটভাটা রয়েছে সবগুলোকে আমরা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিবো। ভ্রাম্যমাণ আদালতে পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী ও জেলা পুলিশের একটি সক্রিয় দল আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
বিডি প্রতিদিন/এএ