গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নোয়াখালী জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি টিম অভিযানের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের নোয়াখালী জেলার সাবেক সদস্য এবং নোয়াখালী সাইবার ওয়ারিয়ার্সের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাইদুর রহমান রায়হানকে আটক করেছে। আটকের পর তাকে নোয়াখালী সুধারাম থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে তাকে একটি রাজনৈতিক মামলায় আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রমতে, সাইদুর রহমান রায়হানের বিরুদ্ধে সংগঠনকে ব্যবহার করে ছাত্রলীগের কর্মসূচি বাস্তবায়ন, বন্যা পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসন, মেয়েদের ব্যবহার করে হ্যানিট্রাপের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও, নোয়াখালী সাইবার ওয়ারিয়ার্সের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অনলাইনে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হয়রানি ও ব্লাকমেইলের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়হান দীর্ঘদিন ধরে সাইবার অপরাধ ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নোয়াখালী জেলা গোয়েন্দা শাখা তার কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছিল এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে আটক করা হয়েছে।
এছাড়া রায়হান এর বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর সমন্বয়ক মেহেদী হাসান সীমান্তকে ২০২২ সালে শিবির ট্যাগ দিয়ে কলেজে মারধরের অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, সাইদুর রহমান রায়হানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আরও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই দাবি করছেন যে, নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের মতো সংগঠনের নাম ব্যবহার করে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তাকে সুধারাম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তাকে একটি মামলা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/এএ