মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মেদিনী মণ্ডল এলাকায় রাস্তায় পড়ে থাকা ইট দিয়ে পুলিশের এএসআই বোরহান উদ্দিনকে আঘাত করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শ্রী সুমন দাস (৩৫) নামে এক আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার দুপুর ১টার দিকে মুন্সিগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক গাজী দেলোয়ার হোসেন এ রায় দেন। এ সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিল। পূর্বে তার জামিন বাতিল করা হয়েছে।
সাজাপ্রাপ্ত আসামি সুমন দাস শ্রীনগর উপজেলার সুরদিয়া দাসপাড়া গ্রামের শ্রী শান্তি দাসের ছেলে। মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ৮টার দিকে লৌহজং উপজেলার মাওয়া চৌরাস্তা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, উপজেলার দক্ষিণ মেদিনী মণ্ডল মাওয়া সুপার মার্কেট মেইন রোডে কতিপয় যুবক মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করছে। এ সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করে ওই যুবক। গ্রেফতার এড়ানোর জন্য সে রাস্তায় পড়ে থাকা ইট দিয়ে লৌহজং থানায় কর্মরত পুলিশের এএসআই মো. বোরহান উদ্দিনের কপালে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।
এ সময় সঙ্গে থাকা কনস্টেবল জিয়াউর রহমান এএসআই বোরহান উদ্দিনকে রক্ষার চেষ্টা করলে ওই যুবক তাকেও কিল-ঘুষি মেরে আহত করে। উপস্থিত জনগণের সহায়তায় পুলিশ আহত অবস্থায় ওই যুবককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরে তার দেহ তল্লাশি করে পরিহিত ট্রাউজারের পকেট থেকে একটি সাদা পলিজিপার ব্যাগে রাখা ১০ পিস ইয়াবা ও ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। সে তখন নিজেকে শ্রী সুমন দাস বলে পরিচয় দেয়।
আটকৃত সুমন দাসের বিরুদ্ধে মাদক আইনে ভিন্ন একটি মামলাসহ পুলিশকে আঘাতের ঘটনায় ২০১৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি লৌহজং থানায় পুলিশের এএসআই মো. বোরহান উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশকে আঘাতের মামলায় ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আসামি শ্রী সুমন দাসকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় ঘোষণা করেন। আসামি সুমন দাস পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ইস্যুর নির্দেশ দেন বিচারক।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী বুলবুল আহমেদ জানান, আসামি সুমন দাসকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আরিফ আহমেদ জানান, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া ও পুলিশের ওপর হামলা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। মাদক বিক্রির সময় গ্রেফতার এড়াতে পুলিশের এএসআই বোরহান উদ্দিনকে আঘাত ও কনস্টেবল জিয়াউর রহমানকে মারধরের অভিযোগে আদালত আসামি সুমন দাসকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন। এ রায়ে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল