বগুড়ায় উদ্ধার হওয়া দুই নারীর লাশের দীর্ঘদিনেও পরিচয় মেলেনি। তাদের পরিচয় শনাক্তে কাজ শুরু করেছে বগুড়া সিআইডি। এদের একজনের মরদেহ শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের গন্ডগ্রাম ও অপরজনের মরদেহ নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের কাথম বেড়াগাড়ী থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
জানা যায়, উদ্ধার হওয়া দুই মরদেহের মধ্যে আনুমানিক ২২ বছর বয়সী লাল গোলাপী সাদা প্রিন্টের জামা পরিহিত যুবতীর মরদেহ উদ্ধার করা হয় শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের গন্ডগ্রাম এলাকা থেকে। গত ২০২২ সালের ১৪ মে পুলিশ সেখানে আদি কালিবাড়ি সংলগ্ন রতন চন্দ্র বিশ্বাসের একটি বাঁশঝাড় থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে।
এ সময় তার গলা ওড়না দিয়ে পেঁচানো ছিল। পরে এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। সে সময় পুলিশ তার পরিচয় উদঘাটনের চেষ্টা করে। তবে শেষ পর্যন্ত পরিচয় না পেয়ে আঞ্জুমানে মফিদুলের মাধ্যমে বেওয়ারিশ হিসেবে দক্ষিণ বগুড়া গোরস্থানে দাফন করে। সেই সাথে আদালতে এ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। কিন্তু আদালত তা গ্রহণ না করে, পুনরায় মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডি বগুড়াকে নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি বগুড়ার এসআই মো. আব্দুল করিম বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৭ মাস ২২ দিনেও তার পরিচয় মেলেনি। তার মৃত্যুর রহস্য ও পরিচয় উদঘাটনের জন্য সিআইডি কাজ শুরু করেছে।
এদিকে, নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের কাথম বেড়াগাড়ী এলাকার কোয়ালিটি ফিডের দক্ষিণপাশে সরিষা ক্ষেতের আইল থেকে উদ্ধার হওয়া অনুমানিক ২২ থেকে ২৩ বছর বয়সী অপর এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তার পরনে কালো বোরকা ও খয়েরি রংয়ের ওড়না ছিল। তার লাশ উদ্ধারের পর ফরিদপুরের এক বৃদ্ধা এসে ওই নারী তাদের মেয়ে বলে শনাক্ত করেন।
এরপর ময়নাতদন্তের পর পুলিশ তার মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করলে তারা ফরিদপুরে তার মরদেহ দাফন করে। কিন্তু পরে জানা যায় ওই নারী তাদের কেউ ছিল না। ওই বয়সী নিখোঁজ হওয়া তাদের মেয়ে বাড়িতে ফিরে এসেছে। পরে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয়। এরপর পুলিশ সদর দফতর থেকে নিখোঁজ ওই নারীর পরিচয় বের করার জন্য সিআইডি বগুড়াকে নির্দেশ দেয়।
সিআইডি বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. মোতাহার হোসেন জানান, দুই নারীর পরিচয় উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। কে বা কারা, তাদের হত্যা করে বগুড়ায় ফেলে গেছে, সে বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। পুলিশ কয়েক দফায় তদন্ত করে এই লাশ দুটির সঠিক পরিচয় পায়নি। তাই সকলকে তাদের সঠিক পরিচয় জানানোর জন্য সহযোগিতা কামনা করছি। গুম করার পর খুন হওয়া মানুষগুলোর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না দীর্ঘদিন থেকে। এ হত্যাকাণ্ডগুলো শুধু গুমের কারণেই হয় না। অনেক সময় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েও খুন হন অনেক ব্যক্তি।
বিডি প্রতিদিন/এমআই