বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় হামলায় যুবদল নেতা রাশেদ মিঞা হত্যা মামলায় বিএনপি নেতা সেলিম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত সেলিম পাকুল্লা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা।
বিএনপি নেতা বাটালুর হামলায় যুবদল নেতা রাশেদ নিহতের ঘটনায় ২০ জনের নামে মামলা করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ২৫ জনকে। এ মামলার আসামি গ্রেফতারকৃত সেলিম। গত রবিবার রাতে সোনাতলা থানায় মামলা করেন নিহত রাশেদুল মিঞার মা ওজেনা বেগম।
সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ মিলাদুন্নবী জানান, আসামিদের মধ্যে পাকুল্যা বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়ামুল কবির, তাঁর চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর আলম এবং পাকুল্যা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল হান্নান বাটালুর নাম রয়েছে।
নিহত রাশেদ মিঞা পাকুল্যা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছুদিন আগে পাকুল্যা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে পাকুল্যা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পাকুল্যা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়ামুল কবির স্বপদে বহাল থাকার জন্য তাঁর চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর আলমকে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে বহাল রাখার জন্য গোপনে নানা অপচেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২ ফেব্রুয়ারি ব্যবস্থাপনা কমিটি বাতিল এবং প্রধান শিক্ষকের অপসারণ চেয়ে মানববন্ধন করে। এ সময় প্রধান শিক্ষকের মদদে পাকুল্যা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নানসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগের দোসররা শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা করে এবং মানববন্ধনের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে।
নিহত রাশেদ মিঞা শিক্ষার্থীদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন এবং হামলার প্রতিবাদ করেন। এ সময় হামলাকারীরা রাশেদসহ তাঁর লোকজনকে হত্যার হুমকি দেয়। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা ৪ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করেন। এরপর ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বিএনপি নেতা আবদুল হান্নানসহ আসামিরা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে রাশেদ মিঞার ওপর হামলা করেন। এ সময় মাথায় ইটের আঘাত করা ছাড়াও ধারালো অস্ত্র, চাপাতি ও রড দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। ১৪ ফেব্রুয়াারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাশেদ মারা যান।
বিডি প্রতিদিন/জামশেদ