জামাই পিঠা, পাকান, পুলি, কানমুচরি, ঝিনুক, হৃদয়হরণ, ফুলঝুরিসহ বাহারি জাতের পিঠা। নানা জাতের পিঠার মাধ্যমে বাংলার ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তুলতে নওগাঁ সরকারি কলেজে হাজির হন শিক্ষার্থীরা। তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে পিঠা উৎসব ও বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজ প্রাঙ্গণে পিঠা উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সামসুল হক।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে নওগাঁ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোক্তার হোসেন, নওগাঁ সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক এস এম মোজাফফর হোসেন, অধ্যাপক মোহাম্মদ শামসুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নওগাঁ সরকারি কলেজের স্নাতক ১৭টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ১৭টি পিঠার স্টল বসান। এসব স্টলে তাঁরা স্থানীয় গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাহারি জাতের পিঠা নিয়ে হাজির হন। এসব স্টলে শতাধিক প্রকারের পিঠা শোভা পেয়েছে। অন্যদিকে কলেজ একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্ভাবন তুলে ধরেন। ১৫টি স্টলে শিক্ষার্থীরা পরিকল্পিত নগর, কৃষি ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান, রোবটসহ বিভিন্ন প্রকল্প তৈরি করে উপস্থাপন করেন।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সামসুল হক বলেন, এক সময় বাংলার ঘরে ঘরে শীত এলে পিঠা বানানোর ধুম পড়ে যেত। কিন্তু এই ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামবাংলার এই চিরন্তন ঐতিহ্য তুলে ধরতে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি এখন চারিদিকে বিজ্ঞানের জয়জয়কার। এই প্রজন্ম আগামীতে তাঁদের জাগৎকে কেমন দেখতে চায় এবং তাদের স্বপ্নে পৃথিবী গড়তে গিয়ে তারা নতুন কি উদ্ভাবন করতে চায় সে সম্পর্কে জানতে বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নতুন নতুন উদ্ভাবন উপস্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের এমন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে প্রয়াস চালানো হবে।
বিডি প্রতিদিন/জামশেদ