বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে ইনশাআল্লাহ। তখন তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের নেতৃত্বে তিস্তাপাড়ের মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর তিস্তা ব্রিজ পয়েন্টে আয়োজিত জনতার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন সকাল থেকে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ এই স্লোগানে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গাইবান্ধাসহ উত্তরের পাঁচ জেলায় চলছে ৪৮ ঘণ্টার লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি। লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, নীলফামারী ও গাইবান্ধার তিস্তাপাড়ে হাজারো মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন এই কর্মসূচিতে।
বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ‘১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর যদি শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী করা হতো, তাহলে কি মুক্তিযুদ্ধ হতো? শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি, দিকনির্দেশনাও দেননি; বরং আওয়ামী লীগের নেতারা আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন। শেখ মুজিবের শাসনামলে রক্ষীবাহিনী হাজার হাজার দেশপ্রেমিক মানুষকে হত্যা করেছিল। তার সময় দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, তখন কলাপাতা দিয়ে মৃতদের ঢেকে রাখা হতো।’
স্বাধীনতার ঘোষণা প্রসঙ্গে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠনের ভিত্তি ছিল ২৭ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা।’
তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের আয়োজনে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধা জেলা সমন্বয়কারী ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবুল আহমেদ ও সদস্য সচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামানিকের যৌথ সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল, মোজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম জিয়া, সুন্দরগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ইখতিয়ার উদ্দিন ভূঁইয়া নিপনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, ‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কোনো একক সংগঠনের নয়, এটি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই।’
উল্লেখ্য, তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের আওতায় গাইবান্ধাসহ উত্তরের পাঁচ জেলার ১১টি পয়েন্টে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এতে তিস্তাপাড়ের কৃষক, জেলে, মাঝি, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করেছেন এবং তিস্তা নদীর করুণ অবস্থা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল