ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ফেসবুকে কমেন্ট করাকে কেন্দ্র করে মসজিদের এক ইমামকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেতা ও তার ভগ্নিপতির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের কোল্লাপাথর নূরানী জামে মসজিদের ইমাম মোশাহিদুল ইসলামের সাথে।
এ ঘটনার বিচার চেয়ে অভিযুক্ত শামিমসহ আরও চারজনের নাম উল্লেখ করে শনিবার সন্ধ্যায় কসবা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ইমাম মোশাহিদুল ইসলাম।
অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা শামিম ওই এলাকার মৃত তোতা মিয়ার ছেলে। তিনি বায়েক ইউনিয়নের যুবলীগের সক্রিয় সদস্য ও তার ভগ্নিপতি মইন মিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের পাকপাঞ্জাতন দরবার শরীফের জিকিরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অভিযুক্ত শামিমের আইডি থেকে পোস্ট করা হয়। ওই ভিডিওতে মসজিদের ইমাম মোশাহিদুল ‘নাম্বার ছাড়া ভন্ড’ কথাটি কমেন্ট করায় গত শুক্রবার একটি দাওয়াতে যাওয়ার সময় শামিম তাকে ডেকে নিয়ে মারধর করে ও তার বুকে লাথি মারে।
তবে ঘটনার পর থেকে সামাজিকভাবে ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ইমাম মোশাহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, শামিম ও তার ভগ্নিপতি মইন খান মিলে আমাকে মারধর ও বুকে লাথি দিয়েছে। কেন আমি হক কথা বললাম। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। তার লোকজন ফোনে হুমকি প্রদান করছে। আমি প্রাণনাশের ভয়ে আছি।
বুকে লাথি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন যুবলীগ নেতা শামিম। তিনি জানান, হুজুর ফেসবুকে আমাকে কমেন্ট করায় তাকে ফোন দিলে সে আমাকে হুমকি দেয়। গত শুক্রবার হুজুরকে রাস্তায় দেখতে পেয়ে ডাক দিয়ে কমেন্ট করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তর্ক শুরু করলে আমি একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা দেই। তবে তার বুকে লাথি দেইনি।
কসবা থানার ওসি (তদন্ত) রিপন দাস জানান, ইমাম সাহেবকে নির্যাতনের ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত স্বাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিডি প্রতিদিন/এমআই