মানবপাচারকারী রাশেদ খানকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাশেদ খানের বিচার ও মানবপাচারকারী টুন্নুসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছে ভুক্তভোগী ২৪টি পরিবার।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে এ অনশন শুরু করেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
শরীয়তপুর কোর্ট পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সূত্রে জানা যায়, মানবপাচারকারী রাশেদ খান ও কামরুজ্জামান টুন্নু খানসহ একটি দালালচক্র শরীয়তপুরের আংগারিয়া ও মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকার ২৪ জন যুবককে ইতালি নেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রত্যেক পরিবার থেকে ১২-২০ লাখ টাকা নেয়। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী নিখোঁজ ২৪ যুবককে ইতালি না নিয়ে লিবিয়ায় বসে নির্যাতন করে উল্টো মুক্তিপণ আদায় করে।
এ ঘটনার পর লিবিয়া থেকে গত বছরের ২২ মার্চ থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় ২৪ জন যুবক। এরপর মানবপাচারকারী রাশেদ খান ও টুন্নু খান ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে। ভুক্তভোগী ২৪ পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজ সাইফুল ইসলামের বাবা ফারুক পেদা মামলা দায়ের করলে ওই মামলায় গতকাল শুক্রবার রাজধানী ঢাকা থেকে রাসেদ খানকে পুলিশ গ্রেফতার করে শরীয়তপুর কোর্টে প্রেরণ করে। গ্রেফতারের পর ভুক্তভোগী ২৪ পরিবার রাসেদ খানের বিচার ও টুন্নু খানসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করে।
মামলার বাদী ফারুক পেদা বলেন, আমার ছেলে প্রায় এক বছর ধরে নিখোঁজ। আমি ছেলের খোঁজ চাইলে রাসেদ-টুন্নুরা আমাকেসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করেছে। রাসেদ গ্রেফতার হলেও একটি প্রভাবশালী মহল তার জামিনের জন্য দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছে। আমরা রাসেদের উপযুক্ত বিচার ও অন্যান্যদের গ্রেফতারের দাবিতে অনশন শুরু করেছি। আমরা আমাদের সন্তানদের খোঁজ চাই। মানবপাচারকারীদের বিচার ও আমাদের সন্তানদের খোঁজ না পাওয়া পর্যন্ত আমরা অনশন চলমান রাখব।
শরীয়তপুর পালং কোর্ট পুলিশের জিআরও মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, রাসেদ খান নামে এক এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে রিমান্ড ও আসামির পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করা হয়েছে। আদালত রিমান্ড ও জামিনের শুনানির জন্য আগামী সোমবার দিন ধার্য করেছেন। আদালতের নির্দেশে রাশেদ খানকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/এমআই