ফেনীর পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের (আওয়ামী লীগ নেতা) সাবেক চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন (বুইজ্জার) স্বাক্ষর জাল করে নাগরিক সনদ দিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়নের রাজষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাজমুল কবির রাজিবের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, রাজিব শিক্ষকতার পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য হালনাগাদ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে পরশুরাম উপজেলা জামাতের শিক্ষক সমিতি (আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের) আহ্বায়ক তিনি। এছাড়াও পূর্বে চিথলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের দায়িত্বশীল পর্যায়ে ছিলেন রাজিব।
সম্প্রতি ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় ইউনিয়ন পর্যায়ে নাগরিক সনদ সত্যায়িত করতে আর্থিক সুবিধা নিয়ে প্যাড ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রাহক জানান, রাজিব ১০০ টাকার বিনিময়ে তাদের নাগরিক সনদ প্রদান করেছেন। এটি জাল নাকি নকল— এ বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে ভোটার হালনাগাদকারী সুপারভাইজার কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, "আমি চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হালনাগাদের দায়িত্বে আছি। রাজিব আমার টিমের একজন তথ্য সংগ্রহকারী কর্মী। ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের পর আমি ১৫ থেকে ২০ জনের নাগরিক সনদের জাল প্যাড ও স্বাক্ষর দেখতে পাই। সেখানে ২০/০৭/২০২৫ এবং ০৪/০৮/২০২৫ তারিখ দেওয়া এবং বঙ্গবন্ধু লোগো সংযুক্ত জাল সনদ পাওয়া গেছে।"
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্য সংগ্রহকারী কর্মকর্তা নাজমুল কবির রাজিব বলেন, "আমার জমা দেওয়া কিছু তথ্যের মধ্যে সাবেক চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বুইজ্জারের স্বাক্ষর দেওয়া ১৫-১৬টি নাগরিক সনদ পাওয়া গেছে। কিভাবে এসেছে, আমি জানি না।"
১০০ টাকা করে গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে রাজিব বলেন, "আমি নিলে আরও বেশি নিতাম। এত কম টাকা আমি নেব?"
চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, "৫ আগস্টের পর সাবেক চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত সনদ ও বঙ্গবন্ধু লোগো সংযুক্ত সরকারি কাগজপত্র আমরা বাতিল করেছি। তবে একটি কুচক্রী মহল সাবেক চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বুইজ্জারের স্বাক্ষর জাল করে এবং লোগো সংযুক্ত নাগরিক সনদ ব্যবহার করে ভোটার হালনাগাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।"
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, "জাল নাগরিক সনদের বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান জানান, "এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তা সঠিকভাবে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বিডি প্রতিদিন/আশিক