নওগাঁর মহাদেবপুরে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ফজলুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে দুই সহোদরসহ ৫ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক ফেরদৌস ওয়াহিদ এ রায় দেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার বাকি ১১ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সৈকত ইলিয়াস কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন, মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ গ্রামের তছির উদ্দিনের ছেলে শহীদুল ইসলাম (৫০) ও আব্দুস সালাম (৬০), আব্দুস সালামের ছেলে আশরাফ (৪০) এবং উপজেলার আতুরা গ্রামের সুবিদ সোনারের ছেলে ইব্রাহিম হোসেন (৬০) ও তার ভাই আবুল কালাম আজাদ (৫৫)।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে ফজলুর রহমানের সঙ্গে একই গ্রামের শহীদুল ইসলাম ও আব্দুস সালামের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরে ২০০৭ সালের ২৪ এপ্রিল দুপুরে শহীদুল ও আব্দুস সালামের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ১৮-২০ জন মানুষ ফজলুর রহমানের ওপর হামলা চালায়। তারা ফজলুর রহমানকে পিটিয়ে হত্যা করে। ওই দিনই ফজলুর রহমানের স্ত্রী শাহনাজ বেগম বাদী হয়ে মহাদেবপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনার তদন্ত নিয়ে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা ২০০৮ সালের ২৪ জুলাই আদালতে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে বাদীপক্ষ এই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দিলে আদালত সিআইডিকে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। সিআইডি তদন্ত করে ১৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।
এই মামলার শুনানি চলাকালে তিন আসামি মারা যান। ফলে ১৬ আসামির বিরুদ্ধে মামলার বিচার কার্যক্রম চলে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলায় ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ১৬ আসামির মধ্যে ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। বাকি ১১ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দেন আদালত।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল