লক্ষ্মীপুরে বাড়িতে একা পেয়ে স্কুলছাত্রী হিরামনিকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আরিফ হোসেন নামে এক আসামিকে ১০ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বুধবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান এ রায় দেন। তবে মামলার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাদী ফাতেমা বেগম।
সন্ধ্যায় ট্রাইব্যুনালের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) তারেক আল আমিন রিশাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আরিফ যখন গ্রেফতার হয়, তখন তার বয়স ছিল ১৭ বছর ১১ মাস ২২ দিন। এতে আদালত তাকে শিশু হিসেবে গণ্য করে। শিশু আইনে ১০ বছরের সাজা সর্বোচ্চ রায়। আসামিকে আদালত সর্বোচ্চ রায় দিয়েছে। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আরিফ সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের পশ্চিম গোপীনাথপুর গ্রামের মো. হানিফের ছেলে।
আদালত ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১২ জুন হিরামনিকে বাড়িতে একা পেয়ে আরিফ জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে অপরাধ আড়াল করতে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ ঘটনায় ২১ জুন সন্দেহভাজন হিসেবে আরিফকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে, ১৫ জুন তরিকুল ইসলাম অয়ন ও সুমন পাটওয়ারী নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে তদন্তে ঘটনার সঙ্গে অয়ন ও সুমনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। ডিএনএ প্রতিবেদনের মাধ্যমে আরিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
পরে ২০২০ সালের ২১ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর মডেল থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোসলেহ উদ্দিন আরিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন। একই সঙ্গে অয়ন ও সুমনের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামিকে ১০ বছরের সর্বোচ্চ সাজা প্রদান করেন।
মামলার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বাদী ফাতেমা বেগম বলেন, ইতিমধ্যে প্রায় ৫ বছর হত্যাকারী আরিফ জেলে ছিল। রায়ে তাকে ১০ বছরের সাজা দিয়েছে। আমার মেয়ের হত্যাকারী আর মাত্র ৫ বছর জেল খাটবে, আমি তা মানতে পারছি না। আমার মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে। এতে আমি কখনো সন্তুষ্ট হতে পারি না।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল