বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকুল্লা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির প্রতিবাদ জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা ও এলাকাবাসী। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের নাম নিয়ামুল কবির। গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয়রা তার অপসারণ দাবি করে এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ অব্যাহত রেখেছেন।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রধান শিক্ষকের মদদপুষ্ট বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা নিয়ামুল কবির দলীয় সুপারিশে পাকুল্লা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। স্কুলে অবস্থিত ৭টি মেহগনি গাছ কেটে বিক্রি করে আত্মসাৎ, সরকারি বরাদ্দের পাঁচ লক্ষ টাকা কাজ না করেই আত্মসাৎ, পুরাতন আসবাবপত্র বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানো থেকে শতকরা দশ ভাগ কমিশন আদায়, বিদ্যালয়ের সৌর বিদ্যুতের ব্যাটারি, ল্যাপটপ নিজের বাড়িতে ব্যবহার, স্কুলের ঘর দোকান ঘর হিসেবে ভাড়া দিয়ে টাকা আত্মসাৎ ছাড়াও অসংখ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত তিনি।
শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির প্রতিবাদে এলাকাবাসী গত এক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করে আসছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা গত ২ ফেব্রুয়ারি স্কুল মাঠে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনকালে প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে বহিরাগত লোকজন কর্মসূচিতে হামলা করে শিক্ষার্থীদের মারধর করে।
স্থানীয়রা জানান, প্রধান শিক্ষক নিয়ামুল কবির সোনাতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তার ছোট ভাই জুলফিকার রহমান টিটো পাকুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। তারা দুই ভাই স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতার সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমন করতে মানববন্ধনে হামলা করে।
এদিকে, গত ২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে হামলার পর তোপের মুখে প্রতিষ্ঠান থেকে পালিয়ে যান প্রধান শিক্ষক নিয়ামুল কবির। এরপর থেকে তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে গা ঢাকা দিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মতিউর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষক তাদের সাথেও যোগাযোগ করছেন না। তারাও তাকে ফোনে পাচ্ছেন না।
সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিলাদুন্নবী জানান, ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপ সৃষ্টি হয়েছে। এক গ্রুপ প্রধান শিক্ষকের পক্ষে আরেক গ্রুপ শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মানববন্ধন কর্মসূচিতে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিডি প্রতিদিন/এমআই