ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের নারী-পুরুষসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়।
গুরুতর আহত ১৪ জনকে ভাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সকালে উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের খাইরদিয়া গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘারুয়া ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ও ঘারুয়া ইউনিয়ন ৮ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি করিম মোল্লার সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গত কয়েকদিন পূর্বে ঘারুয়া ইউনিয়নে কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল। সমাবেশে খারদিয়া গ্রাম থেকে কৃষক দলের একটি মিছিল বের করলে প্রতিপক্ষ বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেনের লোকজন বাধার সৃষ্টি করে। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে এলাকায় উভয় দলের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করে।
এ নিয়ে আনোয়ার হোসেনের গ্রুপের লোকজন রবিবার সকালে শরিফাবাদ বাজারে মহড়া দেয়। তখন করিম মোল্লার লোকজন ভয়ে দোকানপাট বন্ধ করে চলে যায়। পরে তারা কৃষক দলের সভাপতি করিম মোল্লার বাড়ির দিকে হামলা করতে এগিয়ে যায়। তখন করিম মোল্লা গ্রুপের লোকজনের সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মাঝে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষের সময় উভয়পক্ষের নারী-পুরুষসহ ২০ জন সমর্থক আহত হয়। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কৃষক দলের সভাপতি করিম মোল্লা জানান, ৫ আগস্টের পর বিএনপি নেতা আনোয়ার আওয়ামী লীগের লোকজনকে সাথে নিয়ে আমাদের উপর অত্যাচার করে। গত ২৫ জানুয়ারি আমাদের কৃষকদলের মিছিল বের করতে বাধা দেয়।
বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, নিক্সন চৌধুরীর এক নম্বর সমর্থক নিরু খলিফার লোকজন আমাদের বিএনপি নেতাকর্মীর উপরে হামলা চালিয়ে আহত করেছে। এতে নেতৃত্ব দেন কৃষক দলের নেতা করিম মোল্লা।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকছেদুর রহমান বলেন, খাদদিয়া গ্রামে রাজনৈতিক কোনো বিষয় নিয়ে সংঘর্ষ হয়নি। এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গ্রামবাসীর মাঝে সংঘর্ষ হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/এমআই