পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে কাগজে-কলমে ওষুধ কেনা ও ঠিকাদারের কাছ থেকে গ্রহন করা হলেও বাস্তবে স্টোর রুমে এর কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
আজ সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে এ অনিয়মের চিত্র ধরা পড়ে।
হাসপাতালটির রেজিস্টার খাতা পরীক্ষা করে তিন ধরণের ১৫ হাজার ৪৬৭টি ওষুধে এ অনিয়ম ধরা পড়ে। এছাড়াও দুদকের অভিযানে নানা অনিয়মের প্রমান পাওয়া গেছে।
অভিযান পরিচালনাকারী দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন জানান, পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে দুদকের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন রেজিস্ট্রার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তারা দেখতে পান যে হাসপাতালের জন্য ওষুধ কেনা হয়েছে এবং এজন্য ঠিকাদারকেও টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এমনকি স্টোরেও ঔষধগুলো সংরক্ষিত দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে হাসপাতালে ওষুধ পৌছায়নি বা সেগুলো স্টোরেও সংরক্ষণ করা হয়নি।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ওষুধসহ আরও কিছু মালামাল সরবরাহ করতে না পারায় সিকিউরিটি হিসেবে কর্তৃপক্ষকে এক কোটি ৭৬ লক্ষ ২১ হাজার ৬১২ টাকা মূল্যমানের তিনটি চেক দিয়েছেন।
তবে দুদকের এই সহকারী পরিচালক আরো জানান, টেন্ডারের মালামাল না দিয়ে এভাবে চেক আদান-প্রদানের কোন নিয়ম নেই। এছাড়া হাসপাতালে রোগীদের খাবারে নির্ধারিত পরিমানের চেয়ে কম খাবার দেওয়ার প্রমানও পেয়েছে দুদক।
অভিযানের সময় হাসপাতাল থেকে তারা সিরাজ রব্বানী ও রাজিব মন্ডল নামে দুই দালালকে আটক করে। পরবর্তীতে তাদের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিন করে জেল ও ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
এ বিষয়ে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ও হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক মিজানুর রহমান জানান, এসব ওষুধ পূর্ববর্তী সিভিল সার্জনের সময়ে কেনা হয়েছিল। তাই এ বিষয়ে তদন্ত না করে তিনি কিছুই বলতে পারবেন না।
বিডি প্রতিদিন/মুসা