দিনাজপুরের জনজীবন ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত তিনদিন ধরে সূর্যের দেখা মেলেনি। হিম শীতল বাতাসের দাপটে জনজীবন স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে সকাল-সন্ধ্যা বাতাসের সঙ্গে বৃষ্টির মতো শীতের শিশির ঝরে পড়ছে। সকালের দিকে সড়ক-মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীর গতিতে চলাচল করছে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় ঠান্ডা আরো অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষরা বেশি বিপাকে পড়েছেন। শীতের তীব্রতা থেকে রেহাই পেতে গ্রামের মানুষেরা খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।
ঘন কুয়াশার কারণে কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে বীজতলার চারাগুলি হলুদ হয়ে পড়ায় বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেক কৃষক। তবে কৃষি বিভাগের দাবি, এ অবস্থায় কোনো ক্ষতি হবে না। শুক্রবার দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী দুই থেকে তিনদিন রাতের তাপমাত্রা আরো কিছুটা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কাহারোলের বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, বোরো চাষীরা বোরো ধানের বীজের চারাগুলিকে রক্ষার জন্য কেউবা কুয়াশার বালাইনাশক স্প্রে করছেন আবার অনেকে বিকালে বীজতলায় পানি সেচ দিয়ে সকাল বেলায় জমি থেকে পানি বের করে দিচ্ছেন যাতে করে চারাগুলি সতেজ থাকে।
ডহন্ডা গ্রামের কৃষক অতুল চন্দ্র রায় জানান, কয়েক দিনের কুয়াশা আর শীতে চারাগুলি হলুদ হয়ে যাচ্ছে। একই গ্রামের কৃষক সত্যেন্দ্র বলেন, কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে বীজতলায় চারা লালচে বর্ণ ধারণ করে উপরের দিক থেকে কিছু শুকিয়ে মরেছে। আলু, রসুন ও বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
নান্দেড়াই গ্রামের দিনমজুর হারুন, শাহজাহান আলী বলেন, হামারগিলাক ইটভাটায় কাজ করতে খুব ভোরেই যেতে হয়। ঠান্ডায় কাদায় হাত দিবার সময় মনে হয় শীত যেন হাড্ডির মধ্যে ঢুকে যাওচে।
দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, শুক্রবার সকাল ৬টায় দিনাজপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ। বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৩ কিলোমিটার।
তিনি আরও জানান, বায়ুমন্ডলের উপরিভাগে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অত্যাধিক হারে থাকায় দিনের বেলা সূর্যের দেখা মিলছে না বা সূর্যের আলোর কাঙ্খিত তাপ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে শনিবার থেকে জলীয় বাষ্পের আধিক্য কিছুটা কমতে পারে এবং দিনের অবস্থা কিছুটা উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/আশিক