পাহাড়ে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগ। আক্রান্তের সংখ্যায় শিশু ও বৃদ্ধ বেশি। রাঙামাটি জেলা সদরের চেয়ে এ রোগের প্রকোপ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি। দুর্গম পাহাড়ে মারাত্মকভাবে বাড়ছে জ্বর, সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়া। এতে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাই স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের সংখ্যা বেশি থাকলেও রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিক। দুর্গমতা আর যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত থাকায় পাহাড়বাসিদের চিকিৎসা নিতে অনেকটা হিমশিম খেতে হচ্ছে।
রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, শয্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ। ১০০ শয্যা রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে রোগী ভর্তি হচ্ছে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ জন। তাই শয্যা সংকটে পড়েছে রোগীরা। বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে রাখা হচ্ছে মেঝেতে। অন্যদিকে হাসপাতালে জনবল সংকট থাকায় অধিক রোগী সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের। তাই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠি দেওয়া হচ্ছে অনেক রোগীকে।
অন্যদিকে রাঙামাটির ১০টি উপজেলার মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি সাজেক, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি ও ফারুয়া। রাঙামাটির সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়াতে চিকিৎসা নিতে মারাত্মক ভোগান্তিতে রয়েছে স্থানীয়রা।
স্থানীয় শ্যামলী চাকমা বলেন, সম্প্রতি পাহাড়ে শীত তীব্র অনূভব হচ্ছে। এজন্য বয়স্কদের যেমন শ্বাসকষ্ট বেড়েছে, তেমনি শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে নানা রোগে। আমার সন্তানের গলায় টনসিল ছিল। কথা বলতে পারছেনা। তিন বার ঘুরে এসেছি রাঙামাটি জেলারেল হাসপাতালে, একটা ইএনটি চিকিৎসক পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে চট্টগ্রাম গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
একই অভিযোগ শান্তিময় চাকমার। তিনি বলেন, জ্বর ও সর্দি তো ছিল। কিন্তু গলার সমস্যা জটিল ছিল। রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে একটাও পাওয়া যায়নি ইএনটি চিকিৎসক। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দিয়ে বহিঃর্বিভাগে রোগী দেখে বিদায় করা হচ্ছে।
রাঙামাটি হাসপাতালের আরএমও ডা. সওকত আকবর বলেন, আমরা চেষ্টা করি রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা দিতে। শীতকাল তাই ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু অনেক বেশি না। মৃত্যুও নেই। তবে পর্যাপ্ত শয্যা, ওষুধ আর জনবল সংকটের কারণে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে রাঙামাটি সিভিল সার্জন নূয়েন খীসা দাবি করেন, রাঙামাটি উপজেলাগুলো খুবই দুর্গম। সেখানে জেলা সদরের চেয়ে শীতের প্রকোপ বেশি অনুভূত হয়। এছাড়া সেখানে যেসব জনগোষ্ঠী রয়েছে তারাও তেমন সচেতন না। তাই ঠান্ডাজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। অনেকে আবার চিকিৎসা নিতে আসে না হাসপাতালে। যারা হাসপাতালে আসছে, চিকিৎসা ছাড়া কেউ ফিরে যাচ্ছে না।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল