বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদকে নিয়ে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘রুম নম্বর ২০১১’ প্রদর্শিত হলো যশোরের মনিহার সিনেপ্লেক্সে। বিকাল তিনটায় শুরু হওয়া প্রথম শো’তে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। বিপুল সংখ্যক দর্শকের সাথে সিনেমাটি পরিবারসহ দেখেছেন যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আজহারুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সিনেমাটি দেখে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে জেলা প্রশাসক আজহারুল ইসলাম বলেন, এটি একটি সত্য ঘটনার ওপর নির্মিত সিনেমা। ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব স্থানেই এরকম ভীতিকর পরিস্থিতি ছিল। স্কুল, কলেজ, চাকরি, ব্যবসা—সব স্থানে কারও মাথায় টুপি দেখলে, মুখে দাঁড়ি থাকলে, নামাজ পড়লে নানারকম ট্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হতো। চাকরির ক্ষেত্রে তাদের চাকরি হতো না, প্রমোশন হতো না, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে হেনস্তা, নির্যাতন করা হতো। তিনি বলেন, ‘রুম নম্বর ২০১১’ সিনেমাটি বাংলাদেশের একটি সময়কে খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে। এ ধরনের আরও সিনেমা তৈরি হওয়া উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে যশোরের পুলিশ সুপার জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সিনেমাটি দেখার মাঝপথে আমার মেয়ে ভয় পেয়ে বাসায় চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেয়। এতেই বোঝা যায় ক্যাম্পাসগুলোতে কী পরিমাণ ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। আবরার হত্যার ঘটনা খুব বেশিদিন আগের নয়। আমাদের সবার এখনও মনে আছে। ভবিষ্যতে মানুষ সিনেমাটি দেখে বুঝতে পারবে, আমাদের দেশটাকে কতটা ভীতিকর করে তোলা হয়েছিল।’
‘রুম নম্বর ২০১১’ সিনেমার পরিচালক শেখ জিসান আহমেদ বলেন, ‘আবরারকে যখন হত্যা করা হয়, তখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সে কারণে এই হত্যাকাণ্ড তখন আমাকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। তারই ফলাফল এই সিনেমাটি।
এর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়াতে সিনেমাটির প্রিমিয়ার হয়। পরে বগুড়ায় মুক্তি দেওয়া হয়, আজ যশোরে মুক্তি পেল।’ ঢাকাসহ অন্যান্য জেলাগুলোর সিনেপ্লেক্স এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও সিনেমাটি দেখানো হবে বলে তিনি জানান।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল