খুলনায় ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠাণ্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। হঠাৎ শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষজন।
গতকাল খুলনা জেলায় তাপমাত্রা ছিল ১২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া যশোর ১১, সাতক্ষীরা ১৩ ও বাগেরহাটের মোংলায় ১৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ঘন কুয়াশার সঙ্গে বইছে ঠাণ্ডা বাতাস। তাপমাত্রা কমার চেয়ে বেশি অসুবিধা হচ্ছে হিমশীতল বাতাসে।
খুলনার ফেরিঘাট এলাকার মুদি ব্যবসায়ী রমজান আলী জানান, গত দুদিন ধরে সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না। সন্ধ্যার পর থেকে কুয়াশায় চারপাশে মেঘের মতো ঢেকে থাকে। প্রয়োজন ছাড়া লোকজন বাইরে বের হয় না। ঠাণ্ডার মধ্যে কিছুক্ষণ থাকলেই নাক-চোখ দিয়ে পানি পড়ে। লোকজন না থাকায় বেচাকেনাও কম। রেলস্টেশন ও বিভিন্ন ফুটপাত, সড়কের পাশে থাকা দরিদ্র মানুষরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অনেকে চুলার কাছে দাঁড়িয়ে বা কোথাও কাগজ, পলিথিন জ্বালিয়ে উত্তাপ নিতে দেখা গেছে।
এদিকে, শীতের তীব্রতার কারণে ঠাণ্ডাজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে জ্বর, সর্দি, কাশি বেড়ে গেছে। খুলনা শিশু হাসপাতাল ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতাল-ক্লিনিকে রোগীর চাপ বেড়েছে।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. মিজানুর রহমান বলেন, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, বাগেরহাটে তাপমাত্রা ১১-১৩ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে। আকাশ মেঘলা ও ঠাণ্ডা বাতাস থাকায় শীত অনুভূত হচ্ছে বেশি। আরও দুই-তিন দিন ঘন কুয়াশা পড়বে। সেই সাথে শীতের প্রকোপ আরও বাড়বে।