চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সার ডিলাররা সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে প্রতি বস্তায় ৩০০ থেকে সাড়ে ৩৫০ টাকা বেশি আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক কৃষক প্রয়োজন মতো সার জমিতে দিতে পারছেন না। এতে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জেলায় বোরোসহ বিভিন্ন ফসল আবাদের জন্য ১৮ হাজার ৮৬০ মে.টন সার প্রয়োজন। এর মধ্যে টিএসপি ২ হাজার ৮০০ মে.টন, ডিএপি ৮ হাজার ৫৬০ মে.টন এবং এমওপি ৭হাজার ৫০০ মে.টন। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সরবরাহ করেছে মাত্র ৬ হাজার ৭৯ মে.টন। যা বরাদ্দের মাত্র ৩২ ভাগ। কৃষকদের অভিযোগ, অনেক ডিলারের কাছে ডিএপি সার পাওয়া যাচ্ছে না। যাদের কাছে আছে তারা ১ হাজার ৫০ টাকার ডিএপি সারের বস্তাপ্রতি ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা নিচ্ছেন। অন্যান্য সারেও আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত মূল্য।
কৃষি বিভাগ ও কৃষক সূত্রে জানা যায়, রবিশস্যের বীজ বপনের সময় মূলত নন-ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়। চারা গজানোর পর ব্যবহার করা হয় ইউরিয়া সার। আর নন-ইউরিয়া সারগুলোর একটি হচ্ছে ডিএপি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের জলাহার এলাকার কৃষক এনামুল বলেন, দোকানে সার থাকলেও দোকানদাররা বেশি দামে কিনেছেন অজুহাতে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতিবস্তা সারে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা আদায় করছেন। বেশি টাকা না দিলে সার মিলছে না। এতে বেকায়দায় পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক। চরমোহনপুর এলাকার কৃষক আলকেশ আলী বলেন, বিভিন্ন দোকানে সার থাকলেও বেশি দাম না দিলে সার মিলছে না। ফলে অনেক কৃষক প্রয়োজনমতো সার জমিতে দিতে পারছেন না। এতে করে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তিনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বিএডিসির ২৩ জন এবং বিসিআইসির ৫৮ জন ডিলার রয়েছেন। তারা চলতি মাসে চাহিদা অনুযায়ী সার বরাদ্দ পাননি। ফলে সারের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, এ সময়ে সার সংকট হলে কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে, উৎপাদনও কমবে। এতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই কারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আকবর হোসেন বলেন, জেলায় ৫৮ জন বিসিআইসির ডিলার রয়েছেন। কিন্তু জেলার রহনপুরে বাফার গোডাউনে সার না থাকায় ডিলাররা সার পাচ্ছেন না। তিনি আরও বলেন, জেলায় ১৮ হাজার ৮৬০ মে.টন সারের প্রয়োজন। এর মধ্যে বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ৬ হাজার ৭৯ মে.টন। এজন্য কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে কোনো ডিলার সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি নিলে এবং কেউ অভিযোগ করলে সেই ডিলারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. পলাশ সরকার বলেন, জেলায় বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫১ হাজার ৯৩৫ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ৩০ হাজার ৫২০ হেক্টর জমি। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিএমডিএ বরেন্দ্র অঞ্চলে পানি সংকট মোকাবিলায় বোরের পরিবর্তে অন্য ফসল আবাদে উৎসাহিত করায় বোরো আবাদ কমেছে। সার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারের সংকট নেই। কোনো ডিলার সারের বেশি দাম আদায় করছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করছে কৃষি বিভাগ। অভিযোগ পেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।