উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর গলাচিপায় অর্ধশত বছরের পুরাতন পানপট্টি লঞ্চঘাট দফায় দফায় নদীভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে। আসন্ন বর্ষার আগেই উদ্যোগ না নিলে লঞ্চঘাটটি ‘আগুনমুখা’ নদীতে পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া অব্যাহত ভাঙনে নদীর পেটে চলে গেছে শত শত ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি। বহু পরিবার বসতভিটা ও জমি হারিয়ে বসতি গড়েছে অন্যত্র। নদী ও সাগরবেষ্টিত রাঙ্গাবালী উপজেলার ছয় ইউনিয়নের সঙ্গে জেলা সদর ও গলাচিপার মানুষের যাতায়াতের পথ পানপট্টি লঞ্চঘাট। এ ঘাট দিয়ে লঞ্চ, ট্রলার ও স্পিডবোডে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। নদীভাঙনের কারণে পানপট্টি ঘাট দিয়ে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। টেকসই ব্লক দিয়ে বাঁধ তৈরি করলে লঞ্চঘাট, দোকানপাট, ফসলি জমি রক্ষা পাবে, প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের। এলাকাবাসী জানান, উপকূলের মানুষের কাছে এক আতঙ্কের নাম নদীভাঙন। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই ভাঙনের তীব্রতা বাড়ে। এবার শুকনো মৌসুমেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে রক্ষা পাবে না পুরনো পানপট্টি লঞ্চঘাট। ভাঙনরোধ করতে না পারলে মানচিত্র থেকে এক সময় হারিয়ে যাবে লঞ্চঘাট এলাকা।
যাত্রীরা জানান, ‘ব্যবসার কাজে প্রতি মাসে এ লঞ্চঘাট দিয়ে আমাদের রাঙ্গাবালীতে কয়েকবার যাওয়া-আসা করতে হয়। এ ঘাটটি সাত নদীর মোহনায়। লঞ্চঘাটটি ভাঙনের কবলে পড়ায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় পানপট্টি ইউপি ইউপি সদস্য ইব্রাহীম হাসান স্বপন বলেন, আমার ৪৪ বছরের জীবনে অন্তত তিন কিলোমিটার নদীতে বিলীন হতে দেখেছি। ইউনিয়নের ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে অন্তত ১ হাজার পরিবার বিভিন্ন সময় ভাঙনের কবলে পড়ে সব হারিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পানপাট্টি লঞ্চঘাট দিয়ে প্রতিদিন গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। এ ঘাটে ভাঙনের কারণে মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। পাকা ব্লক না ফেললে ভাঙনরোধ করা যাবে না। বালু ভরে বস্তা দেওয়ায় তা কোনো কাজে আসছে না। বস্তা ফেলার ছয় মাস পর আবার নষ্ট হয়ে যায়। স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের দাবি জানান তিনি।
গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাসুদ রানা বলেন, ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আগে জিও ব্যাগ ফেলেছে। গত বর্ষা মৌসুমে মাটি সরে গিয়ে ব্যাগ নদীতে চলে যায়। ফলে কোনো সুফলই মিলছে না। ব্লক বসানো না হলে লঞ্চঘাটটি নদীতে হারিয়ে যাবে। পাশাপাশি এলাকার বহু বাড়িঘর, ফসলি জমি বিলীন হয়ে নিঃস্ব হবে মানুষ।
পটুয়াখালীর পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ হোসেন জানান, ভাঙনকবলিত পানপট্টি লঞ্চঘাট এলাকায় প্রকল্প অনুমোদন হওয়ার পর টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান। লঞ্চঘাটের ৫০০ মিটার এলাকায় ব্লক ফেলে দ্রুতই ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।