চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী আর সরঞ্জাম সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। ৫০ শয্যার জনবল নিয়ে চলছে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতালের কার্যক্রম। সার্জারি, গাইনি, মেডিসিন, নাক-কান-গলা, চক্ষু, শিশুবিশেষজ্ঞ, রেডিওলজিস্ট, প্যাথলজিস্ট নেই। সিনিয়র আবেদনবিদ না থাকায় জটিল রোগ নিয়ে অপারেশন করতে আসা রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, রেডিওগ্রাফি এবং রেডিও টেকনোলজিস্ট না থাকায় বিপাকে পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা। রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তার বেসরকারি ক্লিনিকে ব্যস্ত থাকেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এখানে বিশেষজ্ঞ, জুনিয়র কনসালট্যান্টসহ ২৭ জন চিকিৎসক থাকার কথা। এর মধ্যে ১২ ডাক্তারের পদ শূন্য। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে পদে পদে। দূর-দূরান্ত থেকে এসে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে অনেকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে। স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার ২২ লাখ মানুষ।
সরেজমিন দেখা গেছে, হাসপাতালের সিটি স্কান মেশিন দীর্ঘদিন নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা জানান, হাসপাতালের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কথা। ভর্তি রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে প্যারাসিটামল, গ্যাস ও কিছু হাতেগোনা অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়া কিছুই সরবরাহ করা হয় না। অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়। ওষুধ চাইলেই বলা হয় সরবরাহ নেই। হাসপাতালে সরবরাহ করা খাদ্য নিম্নমানের। বাথরুমগুলোতে নোংরা ও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সাতজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর স্থলে রয়েছে তিনজন।
জেলায় লোকসংখ্যা প্রায় ২২ লাখ। এ জনসংখ্যার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ১৯৯৭ সালে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে বাড়ানো হয়নি কোনো সুযোগ-সুবিধা। এখানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, মেডিকেল অফিসার, নার্স, ওয়ার্ডবয়, অফিস সহকারী, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, মিডওয়াইফ, নার্সিং সুপারভাইজার, সিনিয়র স্টাফ নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ ২৮৫টি মঞ্জুরিকৃত পদের ৪৭টি শূন্য। নানা সংকটসহ হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়েছে। প্রতিদিন শত শত জটিল রোগী দূর-দূরান্ত থেকে টাকা খরচ করে হাসপাতালে এসে ফিরে যাচ্ছেন। হয়রানির শিকার হন। সিভিল সার্জন মো. আবদুস সাত্তার জানান, ডাক্তারসহ লোকবলসংকট রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ডাক্তারসংকট ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী কম থাকায় একটু অসুবিধা হচ্ছে রোগীদের। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কিছু লোক দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। চিকিৎসক ও ওষুধসংকট দূর হলে মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবে।