নিয়মনীতি না মেনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং আমবাগান ও ফসলি জমির আশপাশে গড়ে উঠেছে দেড় শতাধিক ইটভাটা। ভাটাগুলোতে অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ভাটার কালো ধোঁয়ায় প্রতি বছর নষ্ট হয় কোটি কোটি টাকার আম ও জমির ফসল। বিষাক্ত হচ্ছে পরিবেশ।
জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে পরিবেশ বিধ্বংসী ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম শুরুর আগে হাই কোর্ট থেকে নির্দেশনা দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতায় হাই কোর্টের নির্দেশনা উপেক্ষিত হচ্ছে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জেলার বিভিন্ন আম বাগান ও ফসলি জমি।
গত বছরের ২৮ নভেম্বর হাই কোর্ট দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধে সাত দিনের মধ্যে পদক্ষেপ নিতে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিভাগীয় কমিশনারদের নির্দেশ দেন। সেই আদেশ বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। উচ্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করেই চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কার্যক্রম শুরু করেছে অবৈধ ইটভাটার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার দেড় শতাধিক অবৈধ ভাটায় চলছে ইট তৈরি। সেখানে ব্যবহার হচ্ছে কাঠ। ইট তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে কৃষিজমি ও নদীতীরের মাটি। ভাটার চিমনি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ার প্রভাব পড়ছে জনজীবনসহ গাছপালা ও কৃষিতে। অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ইটভাটা পরিচালনার মৌসুম। ভাটা মালিক সমিতির তথ্যমতে, জেলায় ১৫৮টি ইটভাটা চালু রয়েছে। এর মধ্যে ৬৩টি জিকজ্যাক ও ৯৫টি খড়ির ভাটা।
সরেজমিনে দেখা যায়, আমবাগানের মধ্যেই গড়ে উঠেছে ভাটা। সদর উপজেলার সুন্দরপুর ও ইসলামপুরে প্রায় ১৪টি ইটভাটা থেকে ছড়াচ্ছে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া। কয়েকটিতে অবাধে খড়ি পোড়াতে দেখা গেছে। এমনকি ভাটার আশপাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে হাজার হাজার মণ গাছ।
সদর উপজেলার পোড়াগাঁ গ্রামের এক কৃষক বলেন, আমার আম বাগান থেকে গত কয়েক বছর ফল পাইনি। আশপাশের ইটভাটার কারণে সব আম নষ্ট হয়ে গেছে। আরও অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। স্থানীয় একজন কলেজ শিক্ষক বলেন, অধিকাংশ ভাটা পরিবেশ ধ্বংস করলেও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তিনি দ্রুত উচ্চ আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন। জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৫৮টি ইটভাটায় কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে ৬৩টি জিকজ্যাক ইটভাটার লাইসেন্স প্রক্রিয়াধীন। অন্যগুলোর ব্যাপারে তিনি জানেন না। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাছিমিনা খাতুন বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আমরা অবৈধ ইটভাটাবিরোধী অভিযান শুরু করেছি। হাই কোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি। ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব ভাটায় অভিযান চালানো হবে। কোথাও কোনো অনিয়ম বা কাঠ পোড়ানোর তথ্য পেলে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।