হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ও দেবপাড়া ইউনিয়নের মধ্যবর্তী রুস্তমপুর এলাকায় শাখা বরাক নদীর রয়েছে একটি সেতু। প্রতিদিন এ সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করে ছোট-বড় শত শত যানবাহন। সেতুর নিচে ১৩ বছর ধরে বসবাস করছেন ৭২ বছর বয়সী আলাবর মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা। সরেজমিনে গেলে চোখে পড়ে পরিবারটির মানবেতর জীবনযাপনের দৃশ্য।
অভিযোগ রয়েছে, বৃদ্ধের কপালে জোটেনি সরকারি কোনো সহায়তা। জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও মেলেনি কোনো সহযোগিতা। ভূমিহীন পরিবারটির হয়নি মাথা গোঁজার ঠাঁই। রাতে যানবাহনের শব্দে কেঁপে ওঠে পরিবারের শিশুরা। বড়রাও থাকেন আতঙ্কে। এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় মিলছে না কোনো কাজ। সংসারে লেগেই আছে অভাব-অনটন। বন্ধ শিশুদের পড়াশোনাও। আলাবর মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘খুব কষ্ট করে দিনাতিপাত করছি। বর্ষার সময় ঘরে পানি ওঠে। সরকারি ঘর পাওয়ার জন্য কয়েকবার আবেদন করেছি। কেউ একটি ঘর দিয়ে সহায়তা করছে না।’ আলাবর মিয়ার স্ত্রী রোকেয়া বেগম বলেন, ‘অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হয়। নাতি-নাতনিদের নিয়ে খুবই কষ্টে পড়েছি। ভয় করে কখন গাড়ি উল্টে আমাদের ওপর পড়ে’। স্থানীয় দেবপাড়া ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বশির আহমেদ বলেন, পরিচয়পত্রে জটিলতা থাকায় তিনি সরকারি সহযোগিতা পাচ্ছেন না। জেলা প্রশাসক ড. ফরিদুর রহমান বলেন, খাস জমি বন্দোবস্ত নীতিমালা অনুযায়ী তাদের সরকারি জমি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। আলাবর মিয়াকে আনা হবে বয়স্কভাতার আওতায়।