চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর ৬ নম্বর বাঁধসংলগ্ন এলাকায় মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। এ ছাড়া সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের সল্লায় জমির মাটি কাটা হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, বাঁধ থেকে মাত্র ১৫০ মিটার দূরে কাটা হচ্ছে মাটি। এ কারণে হুমকির মুখে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পদ্মা নদী থেকে মেশিনের সাহায্যে মাটি-বালু কেটে নেওয়া হচ্ছে। এভাবে একটি চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। অনবরত ট্রাক্টর ভর্তি মাটি পরিবহনের কারণে ধুলোবালিতে রাস্তার পাশের বাসিন্দাদের প্রচ- দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চক্রটি অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না। অবৈধভাবে পদ্মার মাটি তোলার তথ্য পেয়ে ৬ নম্বর বাঁধ এলাকায় সাংবাদিক যাওয়ার খবরে ছুটে আসে চক্রের সদস্যরা। স্কেভেটর দিয়ে মাটি তোলার জায়গাটিতে যেতে চাইলে বাধা দেয় তারা। সেখানে যেতেই দেখা গেল চারটি ট্রাক্টর বোঝাই মাটি। আরও একাধিক ট্রাক্টরে মাটি বোঝাইয়ের কাজ চলছে। সাংবাদিকদের দেখে ট্রাক্টর চালকরা ট্রাক্টর রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পদ্মার মাটি তোলা চলে। ভেকু দিয়ে এসব মাটি তোলেন প্রভাবশালীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষক বলেন, দিনরাত মিলিয়ে শতাধিক মাটি বোঝাই ট্রাক্টর সড়কটি ধরে বিভিন্ন দিকে যায়। চালকরা বেপরোয়া গতিতে ট্রাক্টর চালান। কয়েকদিন আগেই ট্রাক্টর চাপায় একজন আহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ট্রাক্টর করে নিয়ে যাওয়া মাটি সড়কে পড়ে। আর কুয়াশায় পিচ্ছিল হয়ে সড়ক দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকে। অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করা চক্রের সদস্য জাফরুল দাবি করেন, তিনি এসব কাজের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য করেন। সুন্দরপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মোসা. ফাতেমা খাতুন বলেন, এখানে মাটি কাটার বিষয়ে আমি কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। এদিকে প্রায় এক মাস ধরে সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের সল্লা এলাকায় ফসলি জমির টপ সয়েল কাটা হচ্ছে। ট্রাক্টরে করে এসব মাটি পরিবহন করতে গিয়ে নষ্ট করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং এলজিইডির পিচঢালা রাস্তা। সড়কের ওপর পড়ে থাকা মাটিতে বৃষ্টি পড়ে তৈরি হয় কাদা। ফলে যানবাহন চলাচলেও দেখা দেয় সমস্যা। হরহামেশাই ঘটে সড়ক দুর্ঘটনা। ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ সড়কের পাশে থাকা বাসিন্দা ও দোকানদাররা। ফসলি জমি কেটে পুকুর ভরাটের অপরাধে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরপরও বন্ধ হয়নি মাটি কাটা। ১৪ জানুয়ারি মধ্যরাতে সদর উপজেলার নয়াগোলা পুলিশ লাইন্স এলাকায় মাটিভর্তি ট্রাক্টর চলাচলে বাধা দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক আবদুর রাহিম বলেন, গত অনেকদিন ধরেই সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের সল্লা এলাকায় ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি তোলা হচ্ছে। ইউএনও মোছা. তাছমিনা খাতুন বলেন, সম্প্রতি উপজেলার কয়েক জায়গায় অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করার অপরাধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।
এর মধ্যে সুন্দরপুরের ৬ নম্বর বাঁধ এলাকাও আছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।