দেশের প্রধান লবণ উৎপাদন এলাকা কক্সবাজার-চট্টগ্রামে মাঠ পর্যায়ে লবণের দাম অস্বাভাবিক কমে গেছে। গেল মৌসুমে মণপ্রতি লবণ বিক্রি হয়েছে ৪০০ টাকা; সেখানে এবার বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২২০-২৪০ টাকা দরে। চাষিরা বলছেন, উৎপাদন খরচই পড়ছে মণপ্রতি ৩৫০ টাকার বেশি। এদিকে মাঠ পর্যায়ে লবণ পরিমাপে বেশি নেওয়ায় চাষিরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এমন অভিযোগও রয়েছে। সনাতন পদ্ধতির পরিমাপে ৪০ কেজিতে মণ হলেও লবণ নেওয়া হয় ৫০ কেজি। এতে ১০০ মণ লবণ পরিমাপে ফড়িয়ারা নিয়ে যায় ১১০ মণ। ফলে ওজনেও ঠকছে চাষিরা। বিসিকের তথ্য মতে, গত বছর ঠিক এ সময়ে লবণ উৎপাদন হয়েছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার ৪৭২ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ২১৪ মেট্রিক টন। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে ন্যায্যমূল্য না থাকায় চাষিরা আগ্রহ হারাচ্ছে। বিসিক এবার অপরিশোধিত লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ২৬ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। দেশে চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ মেট্রিক টন। কক্সবাজারের মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া, কক্সবাজার সদর, ঈদগাঁ ও টেকনাফ উপজেলা এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ৬৫ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদন হয়। এখানে চাষির সংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার। গত বছর লবণের দাম বেশি হওয়ায় মাঠের খরচ এবার ১০ গুণেরও বেশি বেড়েছে। শ্রমিকের পারিশ্রমিকসহ অন্যান্য খরচও বেড়েছে। কিন্তু লবণের দাম কমায় বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। মহেশখালীর হোয়ানকের লবণচাষি মোহাম্মদ সাকের বলেন, তিনি ৬ কানি (প্রায় আড়াই একর) জমি ইজারা নিয়ে চাষ করেছেন। নিজে এবং একজন শ্রমিক রেখে লবণ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় প্রত্যাশানুসারে উৎপাদনও হচ্ছে। দুশ্চিন্তায় আছেন জানিয়ে এ লবণ চাষি বলেন, ভালো উৎপাদন হলেও দাম নেমেছে তলানিতে। প্রতিমণ লবণ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২২০ টাকায়। মণপ্রতি উৎপাদন খরচ ৩০০-৩৫০ টাকার বেশি। বর্তমান দামে লবণ বিক্রি করে পুঁজিও তুলতে পারবেন না তিনি। কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপপরিচালক জাফর ইকবাল ভুঁইয়া দর পতনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, লবণের কোনো ঘাটতি আপাতত নেই। আশা করি গত মৌসুমের ন্যায় চলতি মৌসুমেও লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে। কক্সবাজার লবণচাষি কল্যাণ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, গত বর্ষা মৌসুমে প্রতিমণ সংরক্ষিত লবণ সর্বোচ্চ ৫৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অগ্রহায়ণ মাসে চলতি উৎপাদন মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গেই দরপতন শুরু হয়েছে। ৫৫০ টাকা থেকে নামতে নামতে ২২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অথচ গত মৌসুমে এ সময়ে দাম ছিল ৪৪০ টাকার ওপরে। সমিতির নেতা সাহাব উদ্দীন বলেন, ‘সম্প্রতি কালোবাজারির সিন্ডিকেট একটি বড় চালান আমদানির চেষ্টা করেছিল। খবর পেয়ে আমরা সরকারকে জানালে তা আটকে দেয়। কিন্তু এরপর রহস্যজনক কারণে আরও দাম কমেছে।’ লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে চাষিরা। বড় ধরনের লোকসানে পড়লে আগামীতে লবণ চাষ থেকে চাষিরা মুখ ফিরিয়ে নেবে।