লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মদনপুর গ্রামের ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ২০০৩-০৪ অর্থবছরে আবাসন নির্মাণ করে তখনকার বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। আবাসনের ঘরগুলোর এখন জরাজীর্ণ অবস্থা। পুরনো ঘর ভেঙে নতুন করে নির্মাণপ্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে মামলা জটিলতায়। দুই যুগ আগের ঘরগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় মানবেতর দিন কাটছে ভূমিহীন পরিবারের। আট মাস ধরে শীত-বর্ষা উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নিচে পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে আছে তারা।
সূত্র জানান, মদনপুর গ্রামের সরকারি খাসজমিতে ৭০টি পরিবারের জন্য টিনশেডের আবাসন তৈরি করে সুবিধাভোগীদের বুঝিয়ে দেয় তৎকালীন সরকার। তখন থেকে আবাসনে বসবাস করে আসছে ৭০টি পরিবার। দিনে দিনে ঘরের ছাউনির টিনসহ সবকিছু নষ্ট হলে বসবাসের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়ে। সুফলভোগীদের ভোগান্তি বিবেচনায় নিয়ে নতুন ঘর করে দেওয়ার প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। গত অর্থবছরে বরাদ্দ পেয়ে ৭০ পরিবারকে পুনর্বাসন করতে ঘর নির্মাণকাজ শুরু হয়। নতুন ঘর নির্মাণের জন্য পুরনোগুলো সরাতে বললে যে-যার মতো জিনিসপত্রসহ ঘর ভেঙে জায়গা ফাঁকা করেন। ৭০ পরিবারের কেউ আবাসনের পাশে অন্যের বাসাবাড়ির উঠানে, রাস্তার ধারে, বাঁশঝাড়, পুকুরপারে তাঁবু বা পলিথিন টানিয়ে অস্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। বলা হয়েছিল, দু-তিন মাসের মধ্যে ঘর নির্মাণ শেষ হবে। জমিটা ফাঁকা হলে সুযোগ বুঝে তা নিজেদের দাবি করে কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা গ্রামের মৃত শিশির কুমারের স্ত্রী আরতি রানী চন্দ্র হাই কোর্টে মামলা করেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, জেলা প্রশাসকসহ পাঁচজনকে বিবাদী করা হয়। সে মামলায় গত অক্টোবরে নির্মাণকাজের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন উচ্চ আদালত। কাজের শুরুতেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৭০ পরিবার পড়েছে চরম বিপাকে। আদৌ তাদের আশ্রয়ণের ব্যবস্থা হবে কি না তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলাউল ইসলাম ফাতেমী পাভেল বলেন, ‘আবাসনের ৭০ পরিবারের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সমাধান করতে প্রতিটি সভায় বিষয়টি তুলে ধরেছি। এ এলাকায় এমন কোনো পরিত্যক্ত বা খাসজমি নেই যেখানে এসব পরিবারকে অস্থায়ীভাবে স্থানান্তর করা যায়। জমি না থাকায় লোকজন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’ উপজেলা আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইউএনও নুর ই আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘দীর্ঘদিনের পুরনো আবাসনটি জরাজীর্ণ হয়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। নতুন ঘর করে ৭০ পরিবারকে পুনর্বাসন করতে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে।’