নানা সংকটে লক্ষ্মীপুরে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের বাঁশ-বেত শিল্প। ভালো নেই এ শিল্পের কারিগররাও। অনেকে পেশা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। বংশপরম্পরায় যারা এই পেশা আঁকড়ে ধরে আছেন কষ্টে দিন কাটছে তাদের।
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার রাজিবপুর, তেওয়ারীগঞ্জ, ভবানীগঞ্জ, তোরাবগঞ্জ, রামগতির আসলপাড়া, সেবাগ্রাম, রামগতি ও রায়পুরসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৫ হাজার কারিগর এ পেশায় নিয়োজিত আছেন বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে রাজিবপুর ও বাইশমারা গিয়ে দেখা যায়, কোনো কোনো বাড়ির উঠানে চলছে বাঁশ-বেতের শিল্পকর্ম। বানানো হচ্ছে কুলা, চালুন, খাঁচা, মাচা, চাটাই, ওড়া, বাউনি, ঝুড়ি, ডুলা, মোড়া, মাছ ধরার চাই। কয়েক যুগ ধরে বাঁশ-বেতের আসবাবপত্র তৈরি করছেন বাইশমারার কোরবান আলী ও তার পরিবার। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধিসহ নানা সমস্যার কথা জানিয়ে কোরবান আলী বলেন, এ পেশায় টিকে থাকা এখন মুশকিল। বাজারে প্লাস্টিক পণ্যের ভিড়ে এ বাঁশ-বেতের সামগ্রী হারিয়ে যেতে বসেছে। কোরবান আলীর মতো একই কথা বলেন এ শিল্প জড়িত কয়েকজন কারিগর। তারা জানান, বাজারে নিত্যনতুন প্রযুক্তির পণ্যের দাপটে কমতে শুরু করেছে বাঁশ-বেতের পণ্যের কদর। অন্যদিকে দিন দিন বেড়ে চলেছে বাঁশ ও বেতের দাম। লাভ-লোকসানের হিসেব না কষে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই করছেন তারা। আবার পেশা ছেড়ে অন্য পেশায়ও ঝুঁকছেন অনেকে।
বাঁশ-বেতের তৈরি পণ্য বিক্রেতারা জানান, গ্রামগঞ্জে হেঁটে গৃহস্থালি ও অন্য কাজে ব্যবহৃত বাঁশের তৈরি পণ্য চাহিদার আলোকে স্বল্প লাভে বিক্রি করছেন তারা। বাঁশ ও বেত শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং বেকার সমস্যা দূর করতে সরকারি সহায়তার দাবি তাদের। লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্প নগরীর উপব্যবস্থাপক আসাদ উল্লাহ হাসান বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প আধুনিকায়ন ও বাঁচিয়ে রাখতে পদক্ষেপ নেওয়াসহ কারিগরদের জন্য ঋণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হলে বিসিক ব্যবস্থা করবে বলে জানান তিনি।