মাদারীপুরের শিবচরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে টাকার জন্য ফজিলাতুন্নেসা নামের এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত সোহাগ হাওলাদার (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। সোহাগ শিবচর উপজেলার বৈকণ্ঠপুর গ্রামের মো. মফিজ হাওলাদারের ছেলে। ফজিলাতুন্নেসা একই এলাকার মৃত আবদুর রহমান আকনের স্ত্রী।
২২ জানুয়ারি শিবচরের পাচ্চর ইউনিয়নের হোগলার মাঠ গ্রাম আকন বাড়ির পশ্চিম পাশে পরিত্যক্ত ভিটায় মেহগনিবাগানে ফজিলাতুন্নেসার অর্ধগলিত লাশ পাওয়া যায়। এর আগে ১২ জানুয়ারি তিনি নিখোঁজ হন। ৮০ বছর বয়সি এই বৃদ্ধার নিখোঁজের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। লাশ উদ্ধারের পর বৃদ্ধার মেয়ে রেখা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করলে পুলিশ খুনের রহস্য উদঘাটনসহ আসামিকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার রাতে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়েছে। ফজিলাতুন্নেসার মোবাইল ফোন উদ্ধার করে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সোহাগ হাওলাদারক গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, সে বেশ কিছুদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় তীব্রভাবে আসক্ত ছিল। একপর্যায়ে জুয়ার টাকার জন্য ওই বৃদ্ধার গলায় থাকা সোনার চেইন, কানের দুল, একটি মোবাইল ফোন চুরি করতে গিয়ে তাকে অজ্ঞান করার জন্য শ্বাসরোধ করে। কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান।
ফজিলাতুন্নেসার মেয়ে রেখা বলেন, ‘সামান্য সোনার জন্য আমার মায়ের জীবন কেড়ে নিয়েছে। আমার মাকে যে খুন করেছে সেই দোষী সোহাগের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সোহাগ নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি মাত্র ৫০০ টাকায় বিক্রি করেছিল। স্বর্ণালংকার বিক্রি করে ৪০ হাজার টাকায়।